ডুমুরিয়ায় স্লুইসগেটের কপাট নষ্ট

নোনা পানিতে ১৩ বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

এমএ এরশাদ, ডুমুরিয়া (খুলনা)

 নোনা পানিতে ১৩ বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত

ডুমুরিয়ায় স্লুইসগেটের কপাট নষ্ট হওয়ায় নোনা পানি ঢুকছে বোরো ক্ষেতে - সমকাল

খুলনার ডুমুরিয়ার শৈলমারী স্লুইসগেটের কপাট নষ্ট হওয়ায় নোনা পানির প্রভাবে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৩০০ একর জমির বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে  দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে কৃষকদের সোনালি স্বপ্ন। প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী কৃষকরা গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

কৃষকদের ওই আবেদন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে শৈলমারী নদী সংলগ্ন এলাকায় কৃষকরা সেচ পাম্পের মাধ্যমে বোরো চাষ করছেন দেড় যুগ ধরে। এবারও উপজেলার টিয়াবুনিয়া, জিলেরডাঙ্গা, পঞ্চু, ভেলকামারী, জেলেরডাঙ্গা, বড়ডাঙ্গা, গুটুদিয়া, পাটকেলপোতা, বগারখোর, কালিদাশপুর, পাশখালী, বিলপাবলা, খড়িয়া- এই ১৩টি বিলে প্রায় ৩০০ একর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। কিন্তু এবার শৈলমারীর সল্গুইস গেটের কপাট নষ্ট হওয়ায় জোয়ারের পানি গেট চুইয়ে ভেতরে চলে আসছে। আর নোনা পানির প্রভাবে নষ্ট হচ্ছে বোরোর ক্ষেত। ফলে কৃষকদের সব পরিশ্রম মাটি হতে বসেছে।

কৃষক শান্তুনু মণ্ডল বলেন, তিনি ৪ বিঘা জমিতে এবার বোরো চাষ করেছিলেন। তবে নোনা পানির প্রভাবে সব ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তার মতো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা অনেক।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি বিশ্বাস বলেন, বোরো ধানের গাছ লবণ সহ্য করতে পারে না। অতিরিক্ত লবণাক্ততায় বোরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

সংশ্নিষ্ট গেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটরক্ষক মমিন মোল্লা বলেন, স্লুইস গেটের লোহার কপাটের রাবার নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে নদীর জোয়ারের পানি ভেতরে প্রবেশ করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম বলেন, কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সংশ্নিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হবে।

এ বিষয়ে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।