হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি অধিগ্রহণ

মাদারীপুরে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

মাদারীপুর প্রতিনিধি

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি অধিগ্রহণ

মাদারীপুরে গোলাম মোস্তফা খানের জমিতে মাটি ভরাট করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- সমকাল

মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুরে পল্লী বিদ্যুতের একটি উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুরের নতুন শহর এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত গোলাম মোস্তফা খান সরকারের কাছে প্রতিকার দাবি করেন। অন্যদিকে বুধবার মাদারীপুর জেলা প্রশাসনে লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মিঠাপুর চণ্ডিবর্দী মৌজায় ১৪৫নং খতিয়ানের ৫০১নং দাগের ৪০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জন্য গত বছরের ৫ এপ্রিল ৩ ও ৪ ধারায় নোটিশ প্রদান করা হয়। জমির মালিক কাদের খানের ওয়ারিশদের পক্ষে গোলাম মোস্তফা খান গত বছরের ৬ জুন আপত্তি দাখিল করেন। কিন্তু আপত্তির সময় অতিবাহিত হয়েছে দাবি করে জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। পরে ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচপারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন ভূমির মালিকরা। হাইকোর্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই জমির ওপর পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য আদেশ দেন। এই আদেশের পরও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জমিতে খুঁটি গেড়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ জেলা প্রশাসক, ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা ও জেনারেল ম্যানেজারকে একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা মান্য করার ব্যাপারে আইনগত নোটিশ দেন।

জমির মালিকপক্ষ গোলাম মোস্তফা খান দাবি করেন, সংশ্নিষ্ট জমিতে প্রায় একশ' বছরের পুরনো পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। এই জমি অধিগ্রহণ করে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে কবরস্থানটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এ ছাড়া তাদের পরিবারের ভাইদের এই জায়গা ছাড়া বাড়ি করার উপযোগী আর কোনো জায়গা নেই। তাছাড়া এই মিঠাপুর এলাকায় সরকারি জমিসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ উপযোগী আরও অনেক জায়গা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়নি। তার ওপর পল্লী বিদ্যুৎ সেখানে কাজ শুরু করেছে। আমরা উচ্চ আদালতে এ ব্যাপারে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করব।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ওই জায়গায় পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র নির্মাণ জরুরি। অভিযোগকারী ভূমির মালিকরা জমি অধিগ্রহণের টাকা গ্রহণ করুক বা না করুক তাতে কিছুই যায় আসে না। কোনো জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আদালতও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন না। এ ছাড়া মিঠাপুরের ওই জায়গার ব্যাপারে উচ্চ আদালত শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।