ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মামলা মুখে গ্যাস দেওয়ার পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল শিশুটি

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

ওষুধের দোকানের কর্মচারী ইনহেলার (গ্যাস) দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৫ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু রিয়ন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। এতে দিশেহারা বাবা-মা মৃতদেহটি নিয়ে বিচারের দাবি জানাতে হাজির হন অদূরে কোতোয়ালি মডেল থানায়। সেখানে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে গত বুধবার রাতে বরিশাল নগরীতে। এ ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহমুদ হাসান খানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ওসি নুরুল ইসলাম জানান, শিশুটির বাবা আল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। শিশুটির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

নগরীর সিঅ্যান্ডবি সড়কের এক নম্বর পুল সংলগ্ন ইসলামপাড়ার বাসিন্দা আল আমিন-শাহনাজ দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান রিয়ান। ৫ মাস বয়সী এ শিশুটি ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরমর্শে ওষুধের দোকান বেস্ট ফার্মেসিতে নিয়ে মুখে গ্যাস দেওয়া হয়েছিল। রিয়ানের বাবা-মায়ের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় তারা সন্তানহারা হয়েছেন।

রিয়ানের চাচা আসিফ হাওলাদার জানান, জ্বর-সর্দিতে শিশুটিকে বুধবার সকালে শেবাচিম হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদ হাসান শিশুটির মুখে গ্যাস দেওয়ার জন্য প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সদর হাসপাতালের সামনে বেস্ট ফার্মেসিতে যাওয়ার পরমর্শ দেন। এ ফার্মেসিতেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন ডা. হাসান।

ডা. ইকবাল হাসান সাংবাদিকদের কাছে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, শিশুটিকে গ্যাস দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপত্র দেন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে গ্যাস দিতে যান অভিভাবকরা। এ সময়ের মধ্যে হয়ত শিশুটির অসুস্থতা আরও জটিল হয়েছে। যার কারণে তার মৃত্যু হতে পারে।