অনুমোদন ছাড়াই চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাটশিরা বাজারে রেজিস্ট্রেশনবিহীন তাপস ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নামিদামি ডাক্তারের প্রচার চালিয়ে রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানের নামে মাইকিং করে নামিদামি ডাক্তারের প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নাগালের বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠায় এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও ওষুধ বিক্রেতা তাপস অবাধে দুই বছর ধরে এই অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, এমনকি ঘরের ভেতর আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, অ্যানালাইজার মেশিন থাকলেও ডাক্তার, টেকনিশিয়ান, টেকনোলজিস্ট পাওয়া যায়নি।

ডাগায়গনস্টিক সেন্টার চালু করতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর প্রত্যয়নপত্র, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, অনাপত্তিপত্র, বর্জ্যপদার্থ অপসারণের চুক্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, শিল্প ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, প্যাথলজিস্ট, টেকনোলজিস্ট ও ডাক্তারের সম্মতিপত্র এবং ডাক্তারের সার্টিফিকেট নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে এসব কাগজপত্র থাকার কথা থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠান জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোনো কিছুই দেখাতে পারেনি।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী রোগী ফতেপুর গ্রামের জায়দা ও আলমশ্রী গ্রামের জাহেরা জানান, মাইকে বড় ডাক্তারের প্রচার শুনে তাপস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১৫-২০ দিন আগে চিকিৎসা করাই। তারা বিভিন্ন পরীক্ষা করে আমাদের ওধুষ দেয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ক্লিনিকের মালিক তাপস জানান, কাগজপত্রের জন্য আবেদন করব। মাঝে মধ্যে কদ্দুছ ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার একেএম রিফাত সাইদ আসেন। তিনি রোগী দেখেন ও পরীক্ষা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাক্তার ফকরুল হাসান চৌধুরী টিপু জানান, এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যাপারে আমি অবগত নই। অচিরেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়ালীউল হাসান জানান, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করার কোনো সুযোগ নেই। আমি দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।