দুই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ বিষয়টি জানায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল ও নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বোরহান উদ্দিন খান বলেন, সদর উপজেলার বাংলা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের লিটন মিয়ার আগের স্ত্রীর সঙ্গে তারই ভাতিজা হাদিস মিয়ার পরকীয়া হয়। এরই জের ধরে গত ১৯ জানুয়ারি রাতে ইউনিয়নের দিগলা চাতালকোনা বাজারে সামছু মেম্বারের দোকানের ভেতর ফার্মাসির কর্মচারী হাদিস মিয়াকে উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। হাদিস মিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আবদুল আলীর ছেলে। এতে হাদিস মিয়া জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে মৃত মনে করে অপরাধ ঢাকার জন্য দোকানের পেছনের ঢালা খুলে পানিতে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। এ ব্যাপারে নিহত হাদিস মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সামছু মেম্বার, লিটন, বাচ্চু, লালন, মজিদ ও রুবেলকে গ্রেফতার করে।

অন্যদিকে, ২ ফেব্রুয়ারি বাউসি বাজার সংলগ্ন কংশ নদী থেকে মিষ্টির দোকান কর্মচারী আবদুল আলীমের লাশ উদ্ধার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মিষ্টির দোকানের কর্মচারী জেলার বারহাট্টার মোয়াটী গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির ছেলে আলীমকে অন্যান্য মিষ্টির দোকানের কর্মচারী বাড়ি থেকে ডেকে আনে। রাতে মিষ্টি দোকান কর্মচারী সমিতি গঠন নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে অন্যরা তাকে মারধর করে। পরে বাউসি বাজারের পাশে কংশ নদীতে নিয়ে যায় এবং নদীর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে।

এ ব্যাপারে হাবিবুর রহমান হবি বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে ২ ফেব্রুয়ারি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামুন, মানিক, জুয়েল ও নাবিউলকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলফিকার হোসাইন রনির আদালতে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।