নরসুন্ধা নদী এখন ধানী জমি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রবহমান নরসুন্ধা নদী এখন বোরো ধান চাষের ধানী জমিতে পরিণত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালু জমে নরসুন্ধা এখন মরা খাল। কেউ কেউ নদীর পাড়ের মাটি কেটে মাঝখানে ফেলে উঁচু করে বোরো ধানের চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা তৈরি করছে। এতে নদীর অস্তিত্ব আরও বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অথচ এক সময় এ নদী দিয়ে চলাচল করত মালবাহী পালতোলা বড় বড় নৌকা ও কার্গো।

উপজেলার বাঁশহাটী লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি সংঘ কর্তৃক প্রকাশিত রূপসী নান্দাইল বইয়ে অধ্যাপক আফেন্দী নুরুল ইসলামের লেখা প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, আসামের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে সৃষ্টি হওয়া ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদীর নাম কাঁচামাটিয়া। এ কাঁচামাটিয়া নদী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভেতর দিয়ে খালবলা বাজার হয়ে নান্দাইল বাজারের উত্তর পাশ পর্যন্ত চলে গেছে। পরে চেঙ্গোয়া নদী, পাঁচরূখীর ব্রাহ্মণখালী ও পুরহরির ষাড়মড়া নদীর মিলিত ধারাই কাঁচামাটিয়াকে আলিঙ্গন করে নরসুন্ধা নাম ধারণ করেছে। পরে নরসুন্ধা নদী প্রায় ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নান্দাইলের তারঘাট বাজার ও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা ও নীলগঞ্জ বাজার হয়ে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। শুকিয়ে গতিহারা হওয়ায় এর পাড়ে বসবাসকারীরা নদীতে মাটি ফেলে দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলছে। কেউ কেউ বাঁধ দিয়ে মাছ ধরায় নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে নদীর উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লোকজন। জগদীশ বর্মণ ও রতন বর্মণ নামে দুই জেলে জানান, নদীটিতে সারাবছর পানি না থাকায় তাদের অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েন। এসব কারণে তাদের বিকল্প কাজের সন্ধান করতে হয়।

ইউএনও মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম বলেন, আপাতত নদীটি খননের কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। কেউ যদি অবৈধভাবে নদী দখল বা অবৈধ বাঁধ দিয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।