অটোতে অতিষ্ঠ পৌরবাসী বাড়ছে যানজট

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

আবদুর রহিম, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়েই চলছে। ব্যাটারিচালিত অতিরিক্ত ইজিবাইক বেড়ে যাওয়ায় যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে টাঙ্গাইল পৌর এলাকা। তা ছাড়া ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল ও চালকের অদক্ষতার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। যানজটের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে গত বছর পৌর কর্তৃপক্ষ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। পৌরসভার অনুমোদিত নম্বর প্লেটধারী ইজিবাইকগুলো দুই শিফটে ভাগ করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া বাস টার্মিনাল এলাকায় রাস্তার মধ্যে অটো ঘোরানো নিষেধ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথম দিকে যানজটমুক্ত শহর পাওয়া গেলেও কিছুদিন পরেই চিত্র আবার আগের মতোই হয়ে যায়। এখন পৌর শহর মূলত যানজটের শহরে পরিণত হয়েছ।

টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন অটোচালক, যাত্রী ও সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যানজটের কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। যেমন- ইজিবাইকের সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি, ইজিবাইকের দক্ষ চালকের অভাব, নম্বরবিহীন ইজিবাইক চলাচল, মেট্রোরিকশা, রাস্তার ওপর ইজিবাইকসহ অন্যান্য গাড়ি ঘোরানো এবং রাস্তার ওপর গাড়ি পার্কিং। শহরের নতুন বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ দিকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এটি কখনও কখনও হাসপাতাল গেট হয়ে শামসুল হক তোরণ মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া কুমুদিনী কলেজ মোড়, সুপারি বাগান মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কালিবাড়ী মোড়, বটতলা, পৌর উদ্যানের সামনে, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় মাঝেমধ্যেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নতুন বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশ থেকে হাসপাতাল গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায়ই বাসাইল-সখীপুর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের বাস পার্ক করে রাখা হয়। যানজটে আটকা পড়লে অধিকাংশ সময় অটোচালকরা সেখানে যাত্রী নামিয়ে অটো ঘুরিয়ে অন্যদিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আটকা পড়ে যানজট আরও তীব্র হয়। নতুন বাস টার্মিনালে প্রান্তিক পরিবহন, নিরালা, সোনিয়া ও সকাল-সন্ধ্যা পরিবহনের গাড়ি টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়া ও প্রবেশ করার সময় রাস্তার দু'পাশে ইজিবাইক ও রিকশা আটকে রাখা হয়। এতেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

অটো যাত্রী খন্দকার আসলাম উদ্দিন বলেন, যানজট নিরসনে দুই শিফটে অটো চলাচল করলেও শহরে যানজট কমেনি। এক্ষেত্রে যাত্রীদেরও দোষ রয়েছে। অনেকে পাঁচ-দশ টাকা ভাড়া দিতে একশ' টাকার নোট দিয়ে থাকেন। অটোচালক রাস্তার পাশে রেখে ভাংতি দিতে গিয়েও যানজটের সৃষ্টি হয়। অটোচালক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, দোষ আমাদের আছে, তবে অটোচালকদের প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলে অটো চালালে যানজট কম হবে। আর রাস্তার ওপর পার্কিং বন্ধ করতে হবে।

ইজিবাইক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রতন খন্দকার বলেন, প্রশসানকে ম্যানেজ করে নম্বরবিহীন অনেক ইজিবাইক পৌর শহরে চলাচল করছে। যা যানজটের অন্যতম কারণ।

টাঙ্গাইলের ট্রাফিক পরিদর্শক এরশাজুল হক বলেন, অতীতের তুলনায় ইজিবাইক এখন অনেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু ইজিবাইক ফাঁকি দিয়ে শহরে ঢুকে যানজটের সৃষ্টি করে। পৌর শহরের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় মেইন রোডে অটোর বেশি চাপ পড়ছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন বলেন, শহরের যানজট নিরসনের জন্য তিন হাজার ইজিবাইক দুই শিফটে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার পরও বিভিন্ন সময়ে শহরের কিছু এলাকায় যানজট হচ্ছে। এর কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।