ডুবোচরে আটকা অর্ধশত পণ্যবাহী নৌযান

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর

পদ্মায় নাব্য সংকটে নদীর মাঝে জেগে ওঠা ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচরে ফরিদপুর নৌ বন্দরমুখী পণ্যবাহী অর্ধশত জাহাজ, কার্গো ও ট্রলার আটকা পড়েছে। এক মাস ধরে সৃষ্টি হয়েছে এ অবস্থার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসার পর ফরিদপুরে নৌবন্দরে ভেড়ার জন্য এসব নৌযান অপেক্ষা করছে। তবে পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত নাব্য না থাকায় সেগুলো বন্দরে ভিড়তে পারছে না। বন্দরের পন্টুন থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে হাজীগঞ্জে এক সপ্তাহ ধরে নদীতে ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এতে নৌপথের নতুন চ্যানেল সৃষ্টি হবে, তা সঠিকভাবে বলতে পারছে না কেউ।

দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে বোরো মৌসুমের সার, গম, সিমেন্ট, কয়লা, বালুসহ নানা পণ্য নিয়ে এসব নৌযান ফরিদপুর বন্দরের অদূরে গদাধরডাঙ্গিসহ চর ভদ্রাসনের হাজীগঞ্জ ও জাকেরের সুরা এলাকায় অবস্থান করছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে সাড়ে ৮শ' টন সার নিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি জাকেরের সুরায় এসে আটকা পড়েছে এমভি মুগনি-১ নামে একটি পণ্যবাহী কার্গো। এই নৌযানটির চালক মো. সাহাবউদ্দিন জানান, বন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে হলে যে পরিমাণ পানি থাকা প্রয়োজন সেই পানি এখন নেই বলে জাহাজ আর এগোতে পারছে না। তিনি বলেন, যেখানে অন্তত ১০ হাত গভীর পানি থাকা প্রয়োজন ছিল, সেখানে কোথাও বা দুই-তিন হাত পানি রয়েছে। এভাবে অরক্ষিত স্থানে পণ্যসহ কার্গো ভেড়ানোর ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও রয়েছেন। এখন পণ্য খালাসে নানারকম হয়রানি ছাড়াও পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

রবিউল ইসলাম নামে আরেকটি জাহাজের ইঞ্জিনম্যান জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সাড়ে ১০ হাজার বস্তা সার নিয়ে এসেছেন। সাত দিন ধরে তিনি হাজীগঞ্জে আটকা পড়েছেন। প্রতিদিনই তাদের মোটা অঙ্কের টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। এতে তাদের যেসব দিন নষ্ট হচ্ছে, সেজন্য মালিক তো তাদের অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। এখন এই হাজীগঞ্জ থেকে মাল খালাস করার চিন্তাভাবনা করছেন।

ফরিদপুর নৌবন্দরের কর্মচারী মো. খায়রুজ্জামান বলেন, বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ ও কার্গো আসতে না পারায় ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এখানকার কুলি শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৮ হাজার কুলি শ্রমিক এই নৌবন্দর ঘিরে কাজ করেন। নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে আরও ড্রেজিং মেশিন বসানো উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া বন্দরটিতে দুটি পন্টুন তৈরির কাজ শুরু হলেও তা এখন পর্যন্ত শেষ না হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।

ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণবঙ্গসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ব্যবসায়িক পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌবন্দর। বছরের ৫ মাস এখানে পানি কম থাকায় বন্দরে পণ্য খালাসে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

ফরিদপুরের নৌবন্দরের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান রিয়াজ আহমেদ শান্ত করপোরেশনের প্রতিনিধি নাফিজুল ইসলাম তাপস বলেন, আগে যে দরে আমরা নদীর ঘাট ইজারা নিতাম, এখন বন্দর হওয়ার পর তার চেয়ে তিনগুণ বেশি দরে ইজারা নিচ্ছি; কিন্তু পানির স্বল্পতার জন্য বন্দরে যদি নৌযান ভিড়তে না পারে তাহলে তাদের পথে বসতে হবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, বন্দরটিকে সচল রাখতে নৌ মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে জরিপ করেছে। আশা করছি আগামী দু'বছরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে।

বন্দরের পোর্ট অফিসার শেখ সেলিম রেজা বলেন, নাব্য সংকট রয়েছে তা ঠিক। তবে একেবারে যে নৌযান আসছে না, তা নয়। ছোট কার্গো ও জাহাজ ভিড়ছে। নাব্য ফিরিয়ে আনতে একটি ড্রেজিং মেশিন কাজ করছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না।