বাড়তি ভাড়ার ফাঁদে দুর্ভোগে যাত্রীরা

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

আহমদ উল্লাহ, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পরিবহন সংশ্নিষ্টরা প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতি, শনি ও রোববার পরিবহন সংকট দেখিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে আদায় করছে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার নগরী থেকে ফিরতি পথে এবং শনিবার বিকেল এবং রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাস শ্রমিকদের মাঝে চলে যাত্রী জিম্মি করার প্রতিযোগিতা। তবে যাত্রীদের অভিযোগ শুধু তিন দিনই নয়, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই যাত্রীদের জিম্মি করে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় এখন নৈমিত্যিক ঘটনা। শাহ আমানত সেতু থেকে পটিয়া পর্যন্ত চলাচলরত বিআরটিসির বাসগুলো সন্ধ্যার পর নগরীর রুটে চলে যাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টির সুযোগ পায় পাবলিক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। পটিয়া আসনের এমপি ও হুইপ বাসগুলো যাতে রাতের ১১টা পর্যন্ত চলে সে বিষয়ে বার বার নির্দেশনা দিলেও এসব বাসের চালক হেলপাররা তাতে কর্ণপাত করছে না।

যাত্রীরা জানান, এ রুটের নৈরাজ্যের প্রতিকার মিলছে না কোথাও।

সরেজমিনে জানা যায়, নগরের কাছাকাছি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় প্রতিদিন ছুটি শেষে কর্মজীবীদের বড় একটি অংশ বাড়িতে ফিরে যান। এ কারণে সকালে নগরীতে ফেরার পথে এবং বিকেল গড়াতেই দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করেন বাসের চালক ও হেলপাররা। তবে বৃহস্পতিবার এলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম সীমানায় পৌঁছে। সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে শহর থেকে গ্রামের বাড়ি যেতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একই অবস্থা হয় সরকারি বিশেষ ছুটি ও বিশেষ দিবসের আগের ও পরের দিনগুলোতেও। এ সময় যাত্রীবাহী বাসের বাড়তি ভাড়ার ফাঁদে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময় ক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশ, চালক ও মালিকদের সংঘাতের ঘটনাও ঘটে।

জানা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির সুবাদে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার হাজার হাজার লোক চট্টগ্রাম নগরীতে থাকেন। তাঁদের বেশির ভাগই সপ্তাহ শেষে বৃহস্পতিবার এবং সরকারি বিশেষ ছুটি ও বিশেষ দিবস উপলক্ষে বাড়ি যান এবং শনিবার বিকেলে বা রোববার সকাল থেকে নগরীতে ফিরতে শুরু করেন। এক সঙ্গে অনেক লোকের যাত্রাকে পুঁজি করে অবৈধ বাণিজ্য করে গণপরিবহনের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা।

এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, সংশিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ নীরব থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী সাধারণ। যাত্রীদের জিম্মি করার সব দায় শ্রমিকদের বলে জানান বাস মালিকরা। তারা জানান, যাত্রীরা জিম্মি হয় সত্য। তবে এর সঙ্গে মালিক পক্ষ জড়িত নয়। কারণ বাসটি পরিচালনার ভার চালক ও হেলপারের ওপর থাকে।

তবে পরিবহন শ্রমিকদের যুক্তি হলো, সপ্তাহে তিন দিন যাত্রীদের চাপ একমুখী হয়ে যায়। এ কারণে বাসগুলোকে অন্যদিক থেকে খালি ফিরতে হয়। তখন তেলের খরচও পাওয়া যায় না। অন্যদিকে মালিক পক্ষকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া দিন শেষে জমা দিতে হবে। এ কারণে চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করতে বাধ্য হন। তারা বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে সমাধানের একটি পথ হলো সরকারি বিআরটিসি বাস অন্য দিনের মতোই যেন সড়কে চলাচল করে এবং সন্ধ্যার পর যেন তাদের পছন্দ মতো রোডে চলে না যায় তা নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, 'কিছু অসাধু পরিবহন মালিক বিশেষ বিশেষ দিনে পরিবহনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যাত্রীদের হয়রানি করে আসছে। আমি নিজেই বেশ কয়েকবার ব্যবস্থা নিয়েছি। এ রুটে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে এস আলম পরিবহনের ১০ টি বাস সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। অচিরেই এ রুটে যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'