পানির অভাবে ৪ জেলায় বোরো আবাদ সংকটে

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সাজ্জাদ রানা, কুষ্টিয়া

বোরো আবাদের মৌসুম চলছে। তবে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে কুষ্টিয়াসহ চার জেলার হাজার হাজার কৃষক পানির অভাবে বোরো আবাদ শুরু করতে পারেননি। এ অবস্থায় ধানের চারা নষ্ট হচ্ছে অনেক কৃষকের। উপায় না পেয়ে তারা অতিরিক্ত খরচ দিয়ে সেচ পাম্পের পানি দিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ এক বিঘায় দেড় হাজার টাকা বেশি লাগবে। এমনিতেই অর্থ, জনবল, নাব্য সংকট ও দখলে দেশের অন্যতম বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্পের করুণ দশা। কুষ্টিয়াসহ চার জেলার প্রায় দুই লাখ কৃষক বৃহৎ এই প্রকল্পের পানি থেকে চাষাবাদ করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরে বোরো ও আমন মৌসুমে প্রায় ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদনে পানি সরবরাহ করা হয় জিকে প্রকল্প থেকে। তবে এখন জিকের প্রধান খালসহ সব খাল পানিশূন্য। পদ্মায় এ বছর পানির স্তর অনেক নেমে যাওয়া ও জিকের যে চ্যানেল দিয়ে পদ্মা থেকে পাম্প হাউস পর্যন্ত পানি আসে, সেটিও পলি পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে জানুয়ারির প্রথম থেকে পাম্প চালুর কথা থাকলেও এখনও পলি অপসারণ করতেই পারেনি জিকের ড্রেজার বিভাগ।

জিকে সূত্র জানিয়েছে, চ্যানেলে অতিরিক্ত পলি পড়ে যাওয়ায় এ বছর বেশি খনন করতে হচ্ছে। যার কারণে পাম্প চালানো যায়নি। এ কারণে পানি পাচ্ছেন না কৃষক। পলি অপসারণ করে পাম্প চালু করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

এদিকে জানুয়ারির প্রথম থেকেই মাঠে বোরো আবাদের প্রস্তুতি নেন কৃষক। তবে জিকের আওতাধীন অনেক কৃষক মাঠে চাষ দিয়ে রাখলেও পানির অভাবে চারা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। তারা পানির জন্য অপক্ষো করছেন। ১৫ জানুয়ারি পাম্প চালুর কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

সরেজমিন শহরতলির বটতৈল ইউনিয়নের টাকিমারা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পানির অভাবে বিস্তীর্ণ জমি পড়ে আছে। দু-একজন কৃষক সেচ মেশিনের পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত করে ধানের চারা লাগাচ্ছে।

কৃষক আজিবর রহমান বলেন, জিকের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই কৃষকরা ঠকছেন। একে তো ধানের দাম নেই। তার ওপর সময় মতো পানি না পেলে আবাদ হবে কীভাবে?

জিকের কৃষক সমিতির নেতারা জানান, কুষ্টিয়া ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলায় বিস্তৃত এ প্রকল্পটি। এ চার জেলার ১৩টি উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা এ সেচ সুবিধা ভোগ করেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় প্রকল্পের প্রধান পাম্প স্টেশন। এখান থেকে জিকের প্রধান খালটি শুরু হয়েছে। তিনটি আধুনিক মানের বড় পাম্প দিয়ে পদ্মা নদীর পানি সেচে প্রধান খালে ফেলা হয়। এ পানি কুষ্টিয়া, আলমডাঙ্গা ও গঙ্গা প্রধান খালে প্রবাহিত হয়। পদ্মা নদী থেকে পানির সরবরাহ ঠিক রাখতে এক কিলোমিটার চ্যানেল রয়েছে। তবে সম্প্রতি এ চ্যানেলে অতিরিক্ত পলি জমে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। খনন করেও পানি সরবরাহ ঠিক রাখা যাচ্ছে না। এ কারণে শুস্ক মৌসুমে বেশিরভাগ সময় মাত্র একটি পাম্প চালু রাখতে হচ্ছে। একটি পাম্প চলায় চার জেলার সব খালে পানি সরবরাহ ঠিক রাখতে হিমশিম খেতে হয়। এর ফলে জিকে কর্তৃপক্ষ দুটি প্রধান খালের স্লুইসগেট বন্ধ রাখে। তবে সেচ পাম্পগুলোতে ত্রুটিজনিত কারণেও পানি উত্তোলনে সমস্যা হয় অনেক সময়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'এ বছর চ্যানেলে পলি পড়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পলি অপসারণের কাজ চলছে। এর পর পাম্প চালু করা হবে। ১৫ জানুয়ারি পাম্প চালুর দিন থাকলেও তা করা যায়নি। তবে দ্রুত পাম্প চালুর চেষ্টা চলছে।