সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

ফাঁসির দাবিতে ফুলবাড়িয়া থানা ঘেরাও

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ফুলবাড়িয়ায় আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে গরুর খামারে আটক রেখে যুবক সেলিম হত্যার প্রধান আসামি পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে জামালপুর সদর থেকে তাকে গ্রেফতার করে ফুলবাড়িয়া থানায় নিয়ে আসা হয়। জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে গতকাল আন্ধারিয়াপাড়া থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও করেন শত শত গ্রামবাসী। উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে ঘাতকদের ফাঁসির দাবি জানান তারা।নিহত সেলিম আওয়ামী লীগ কর্মী বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক সরকার।

উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে এসআই মোহাম্মদ আলীর গরুর খামারে নির্মম প্রহারে নিহত হাস্যোজ্জ্বল যুবক সেলিম আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের চতুর্থ পুত্রের মধ্যে দ্বিতীয়। স্ত্রীসহ আশিক নামে দশ বছরের এক ছেলে ও জান্নাত নামে চার বছরের এক মেয়ে রয়েছে তার। অন্যের কাজকর্ম করে সংসার চালাতেন তিনি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের যে কোনো মিছিল হলেই তাকে সামনে ভ্যান-রিকশা সরাতে দেখা যেত। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আ. মালেক সরকার এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এ হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সেলিম হত্যার বিচার দাবিতে সোমবার সকালে আন্ধারিয়াপাড়া থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বিক্ষোভ করে ফুলবাড়িয়া থানার ভেতর ঢোকেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় খুনি এসআই মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে রিয়াদের ফাঁসির দাবিতে পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা দ্বিতীয় দফায় থানা ঘেরাও করে ফুলবাড়িয়া থানাহাজতে থাকা গ্রেফতারকৃত এসআই মোহাম্মদ আলীকে একনজর দেখার জন্য এর সামনে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফুলবাড়িয়া-ময়মনসিংহ সড়কের ওপর বসে পড়েন। এ ঘটনায় নিহত যুবকের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বাদী হয়ে পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলী, এসআই ছেলে রিয়াদ আহাম্মেদসহ পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমান বলেন, পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।