ব্লাস্ট রোগে কমছে গমের আবাদ

নড়াইল

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শামীমূল ইসলাম, নড়াইল

নড়াইলে প্রতি বছরই আশঙ্কাজনক হারে গমের আবাদ কমছে। গত চার বছরে জেলায় গমের আবাদ ছয় ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। ব্লাস্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া, উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম, ধান থেকে গমের দাম কম হওয়ায় এর আবাদ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে ব্লক সুপারভাইজার থাকলেও মাঠের কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার তিনটি উপজেলায় গমের আবাদ হয়েছে মাত্র এক হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে। গত তিন বছরের মধ্যে ২০১৫-১৬ মৌসুমে ছয় হাজার ৩০২ হেক্টর, ২০১৬-১৭ মৌসুমে চার হাজার ১২৪ হেক্টর এবং ২০১৭-১৮ মৌসুমে এক হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়।

সদরের তালতলা গ্রামের কৃষক মোসলেম মুন্সি জানান, এক মণ গম উৎপাদনে ব্যয় হয় ৬০০ টাকা আর তা বিক্রি হয় ৬০০-৬৫০ টাকায়। এতে কৃষকের খচরও ওঠে না। আরেক কৃষক তারা শেখ জানান, গত ৪ বছরে এ এলাকার ব্লক সুপারভাইজারকে দেখা যায়নি। এখানে কৃষকদের সিআইজি নামে কিছু আছে, তাও জানি না। গত বছর আমাদের গ্রামের এক কৃষককে আবাদ করতে গম দেওয়া হলেও তিনি তা চাষ না করে খেয়েছেন বলে জানান।

নড়াইল পৌরসভার মথুরাপুর এলাকার কৃষক বিকাশ বিশ্বাস জানান, প্রতি বছর আমি গমের আবাদ করলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো গমের বীজ পাইনি। নড়াইল শহরের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান মুকুল জানান, ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগে গমের আবাদ কমেছে। আর তাতে ওষুধ দিলেও কাজ হয় না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, গমের আবাদ কমার পেছনে ব্লাস্ট রোগ একটি অন্যতম কারণ। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে গমের আবাদ শেষ করে বোরো চাষে যাওয়া সম্ভব হয় না। এসব কারণেও গমের আবাদ কমতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে আবাদের জন্য নতুন ৩০ জাতের গমের বীজ এনে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে কৃষকদের ১০টি সিআইজি (কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ) রয়েছে। তারা দলভিক্তিক কৃষকদের বিভিন্ন চাষের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ব্লক সুপারভাইজাররা এসব বিষয় তদারকি করে থাকেন। তবে অনেক ইউনিয়নে এ পদ শূন্য থাকার কারণে সাময়িক সমস্যা হতে পারে।