ফেনীতে কিশোর গ্রুপের হাতে খুন হয় নাহিদ

আদালতে খুনির স্বীকারোক্তি

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

ফেনীতে কিশোর আরাফাত হোসেন নাহিদ (১২) হত্যার হোতা সাব্বির (১৫) ফেনী আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন।

গত রোববার রাতে ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি এলাকা থেকে আরাফাতকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে পুঁতে রাখা হয়। পরে পুলিশ মাটিচাপা অবস্থায় থেকে লাশ উদ্ধার করে। আরাফাত ফেনী পুলিশ লাইন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ও প্রবাসী জসিম উদ্দিনের একমাত্র ছেলে। পরে সাব্বিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা করা হয়।

আদালতে দেওয়া জাবানবন্দিতে সাব্বির জানায়, সে ওই এলাকার একটি বস্তিতে থাকে এবং আরাফাতদের নির্মাণাধীন বাড়ির কাজের শ্রমিক সে। কিন্তু সিনিয়র হিসেবে আরাফাত তাকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করে না। তুই করে ডাকে। এতে তার সম্মানহানি হয় বলে সাব্বির আদালতকে জানায়। এতে সে ক্ষুব্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে আরাফাতকে বাসার সামনে থেকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যায় সাব্বিরসহ চার কিশোর। সেখানে নিয়ে নোমান (১৭), মুন্না (১৬), তুহিনসহ (১৫) চারজন মিলে আরাফাতকে বেধড়ক মারধর করে ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে গভীর রাতে তাকে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়।

ফেনী থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, খুনি সাব্বির বয়সে কিশোর হলেও সে গুরুতর চরিত্রের ছেলে। গত বুধবার গ্রেফতারের পর থেকে সে পুলিশকে বিভিন্ন কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। সে পুলিশ ও আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছে, তা এখন পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। হত্যার পেছনে আরও কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের জবানবন্দি গ্রহণের পর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে ওসি জানিয়েছেন।