মিরসরাইয়ে দুই মাসে খুরা রোগে ২৫ গরুর মৃত্যু

আতঙ্কে কৃষক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মরছে গবাদিপশু। গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৫টির বেশি গরু মারা গেলেও এর কোনো হিসাব নেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কার্যালয়ে। ভাইরাসজনিত এ রোগ একবার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদিপশু মারা যাওয়ার কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন প্রান্তিক কৃষক।

জানা গেছে, গত দু'তিন মাস এ রোগের প্রভাব কিছুটা বেশি থাকলেও এখন কমতে শুরু করেছে। প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে গত বছরের অক্টোবরে এফএমডি রোগে আক্রান্ত ৩৫টি, নভেম্বরে ৩০, ডিসেম্বরে ২৫টি ও জানুয়ারি মাসে ১৫টি গবাদিপশুর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খইয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া, নয়দুয়ার, মায়ানী ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম মায়ানী, হিংগুলীসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদিপশুর মুখ দিয়ে লালা পড়ে, খাবার খেতে চায় না, পায়ের খুরার ফাঁকে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শুরুতে চিকিৎসা করাতে না পারলে গবাদিপশু অল্প সময়ের মধ্যে মারা যায় এবং এলাকার অন্য পশুদের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদিয়া এলাকার দুলাল অঞ্জন জানান, খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের দুটি বাছুর মারা যায়। এ ছাড়াও কয়েকটি এলাকায় এ রোগে গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। এলাকায় অনেক গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে। তবে পশুগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নাবিল ফারাবি জানান, খুরা বা এফএমডি রোগের ৭টি ধরন আছে। তবে এ রোগ প্রতিরোধের জন্য সরকারি যে ভেকসিন দেওয়া হয় তাতে তিন ধরনের অর্থাৎ ও, এ, এশিয়া-১ এফএমডি রোগের কাজ হয়। কিন্তু সি, এসএটি-১, এসএটি-২, এসএটি-৩ রোগের কোনো ভেকসিন নেই। বিশেষ করে বাইরে থেকে আসা গবাদিপশুর শ্বাসপ্রশ্বাস ও লালার মাধ্যমে এলাকায় এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভেকসিন দেওয়ার কারণে তিনটি এফএমডি থেকে গবাদিপশুকে রক্ষা করা গেলেও আরও চারটি এফএমডি রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশু বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল পোদ্দার জানান, এ রোগটি শীত ও বর্ষাকালে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া দেশের বাইর থেকে আসা গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এ রোগ প্রতিরোধ করতে গবাদিপশুর ঘর খাওয়ার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, পিপিএম (লাল পটাশ) দিয়ে পরিস্কার করা ভালো। রোগাক্রান্ত গবাদিপশু অন্য পশুগুলো থেকে আলাদা রাখতে হয়।