ফেসবুক স্ট্যাটাসে সহমর্মিতা প্রকাশ করায় হামলা

স্বরূপকাঠিতে গ্রেফতার ১

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

স্বরূপকাঠিতে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মন্তব্য করায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগে পল্লব ঘোষ নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার তাকে গ্রেফতারের পর শনিবার আদালতে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন গোপাল চন্দ জানান, তিনি গত সোমবার দুপুরে কুড়িয়ানা বাজারে তার দোকান থেকে ইদিলকাঠি বাজারের এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ ও একটি দোকানে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে মোটরসাইকেলযোগে যান। এ সময় জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জহর ঘোষ ও তার ছেলে পল্লব ঘোষসহ কয়েকজন তার মোটরসাইকেল থামিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

উপজেলার কামারকাঠি এলাকায় ১৯৬৭ সালে চিত্তরঞ্জন চন্দ ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করা হয়। ওই সময় চিত্তরঞ্জন চন্দের দুই বছরের ছেলে ভাস্কর চন্দের হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়। ওই ঘটনায় জহর ঘোষ, নির্মল কুমার চন্দ (নিমাই) ও দ্বিপক আইচদের (দ্বিপু) নামে মামলা হয়। ওই সময় তাদের সাজাও হয়েছিল বলে চিত্তরঞ্জন চন্দের বড় ছেলে শঙ্কর চন্দ জানান। তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সব জেলবন্দি মুক্ত হওয়ার সুযোগে তারাও মুক্তি পায়। এরপর আসামিরা ভারতে চলে যায়। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর জহর ঘোষ দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অবশ্য পরে কী হয়েছে, তা তিনি জানাতে পারেননি। চিত্তরঞ্জন চন্দের ছোট ছেলে ভাস্কর চন্দ (বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী) তার ফেসবুকে ওই ঘটনা নিয়ে গত ২৪ জানুয়ারি একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে সহমর্মিতা প্রকাশ করে গোপাল চন্দ মন্তব্য করায় জহর ঘোষ ও তার ছেলে পল্লব ঘোষ ক্ষিপ্ত হয়ে গোপাল চন্দকে মারধর করা হয় বলে জানান তিনি। এ সময় তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকাও লুট করা হয়।থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান বলেন, হামলার অভিযোগে পল্লব ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।