বনখেকোদের ভয়ে আতঙ্কে বিট কর্মকর্তা

ফুলবাড়িয়ায় বাড়ছে করাতকল

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

উপজেলার শিবগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে পার্শ্ববর্তী বালুরঘাট বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারের পথে যেতে গেলে রীতিমতো আঁৎকে উঠতে হয়। কেননা, উপজেলার শুধু একটি বাজার থেকে আরেকটি বাজারের যেতে এই ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই চোখে পড়ে ১৩টি অবৈধ করাতকল এবং তাতে অহরহ বনের কাঠ পড়ে থাকাসহ কাঠ চেরাইয়ের দৃশ্য।

ফুলবাড়িয়ার বনাঞ্চলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বন বিভাগের ছাড়পত্রহীন অবৈধ করাতকল, যার সংখ্যা বর্তমানে শতাধিক। বনখেকোদের এরূপ লাগামহীন দৌরাত্ম্য রুখতে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার দায়ের করা বন মামলাও এখন আর কোন কাজে আসছে না। কালেভদ্রে প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ করাতকল মালিকদের শাস্তি কিংবা মিলের চাকা খুলে নিয়ে গেলেও এখন আর দৃশ্যমান নেই সেসব অভিযান। যার দরুন পুরনো করাতকল স্থাপনের পাশাপাশি নতুন করাতকল স্থাপনাও বাড়ছে প্রতিদিন। এসব করাতকলে বেড়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নৈরাজ্য। তারা মেতেছে নির্বিচারে বন উজাড়ের সর্বনাশা খেলায়। সব দেখেও যেন প্রভাবশালীদের ভয়ে নিরুপায় হয়ে মুখে কুলুপ দিয়ে বসে থাকতে হয় বন বিভাগের বিট কর্মকর্তাদের।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্নিষ্ট মহলগুলোতে মাসিক খিরাজ দিয়েই এরূপ অনুমোদনহীন করাতকল স্থাপন করে কাঠ চেরাই করে আসছে মিল মালিকরা।

এদিকে বন আইনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কাঠ চেরাই মিল বা করাতকলের অনুমতি না থাকলেও প্রভাবশালী কাঠচোরদের অনেকে উপজেলার সন্তোষপুর বন বিভাগসহ আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেশ্বরগঞ্জ, বালুঘাট, রাঙামাটিয়া, শিবগঞ্জ, এনায়েতপুর, সোয়াইতপুর এলাকায় চিহ্নিত প্রভাবশালীরা শতাধিক করাতকল গড়ে তুলেছে, যার একটিরও সরকারি অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বন বিভাগের সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ফুলবাড়িয়া বন এলাকায় অবস্থিত করাতকলের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার পাশাপাশি তারা করাতকলও চালায়। আগের মতো প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ করাতকল মালিকদের মিলের চাকা খুলে আনলে যদি কিছু দমন হয়।

দক্ষিণাঞ্চলীয় অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুর বনাঞ্চল। ঐতিহাসিক ভাওয়াল মধুপুর গড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত এ বনাঞ্চল এক সময় উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল রক্ষায় ছিল দক্ষিণ ময়মনসিংহের এক দুর্গ। বয়োবৃদ্ধসহ লোকমুখে শোনা যায়, এ বনাঞ্চলে এক সময় বন্যহাতি ছাড়াও দুর্লভ অনেক প্রাণীর বাস ছিল। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সঙ্গে ছিল সৃজিত বনাঞ্চল ও রাবার বাগান।