পটুয়াখালী

খননের পর নদীতেই ফেলা হচ্ছে মাটি

নাব্য সংকট কাটছে না বিভিন্ন নদ-নদীর

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মুফতী সালাউদ্দিন, পটুয়াখালী

খননের পর নদীতেই ফেলা হচ্ছে মাটি

পটুয়াখালী লঞ্চঘাট সংলগ্ন লাউকাঠি নদীতে ড্রেজিং করা হচ্ছে- সমকাল

নাব্য সংকট দূর করতে পটুয়াখালীর লাউকাঠি ও লোহালিয়া নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদীতে চলছে বিআইডব্লিউটিএর বিশাল ড্রেজিংযজ্ঞ। কিন্তু এ ড্রেজিংয়ে নদীর মাটি নদীতেই ফেলা হচ্ছে। এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শুধু সরকারের লাখ লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে, আর লঞ্চ স্টাফ ও যাত্রীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

নদীর গতিপথ ঠিক রাখতে ও নাব্য সংকট দূর করতে জরুরিভিত্তিতে ১১টি নৌ-চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে আট হাজার ৫০০ মিটার ড্রেজিং করার জন্য বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে চিঠি দেয় পটুয়াখালী নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। নৌ-চ্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে- পটুয়াখালী জেলা সদরের লঞ্চঘাট সংলগ্ন লাউকাঠি নদীর এক হাজার মিটার, লোহালিয়া নদীর সেহাকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় ৫০০ মিটার, জৈনকাঠির মোড় ৫০০ মিটার, লোহালিয়া খেয়াঘাটের উভয় দিকে এক হাজার মিটার, বগার লঞ্চঘাট এলাকায় ৫০০ মিটার, হোগলারচর এলাকায় এক হাজার মিটার, তেঁতুলিয়া নদীর বাউফলের নুরাইনপুর লঞ্চঘাট থেকে তেঁতুলিয়া নদীর মোহনা পর্যন্ত এক হাজার মিটার, কারখানা নদীতে ৫০০ মিটার, ঝিলনা নদীর মোড় এক হাজার ৫০০ মিটার, সোনাকান্দা চর এলাকায় ৫০০ মিটার এবং কবাই নদীতে ৫০০ মিটার।

পটুয়াখালী নদীবন্দরের এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের লাউকাঠি ও লোহালিয়া নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয় গত মাসে। বিশাল এলাকাজুড়ে নদীর ড্রেজিং করা হলেও নদীর নাব্য সংকট দূর হচ্ছে না, বরং সংকট দিন দিন বাড়ছেই। যেখান থেকে মাটি কাটা হচ্ছে, তার পাশেই নদীতে ফেলা হচ্ছে ড্রেজিংয়ের মাটি। এতে নদী আরও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কৌতূহলী মানুষের প্রশ্ন, এখানে কি নদীর ড্রেজিং করা হচ্ছে, নাকি নদী ভরাট করা হচ্ছে? এর ফলে এই ড্রেজিংয়ের কাজ কতটা সুফল বয়ে আনবে তা নিয়েও প্রশ্ন লঞ্চ স্টাফসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, একটি মহলকে খুশি করতে ও তাদের উদ্দেশ্য সফল করতেই নদীর মাটি নদীতেই ফেলা হচ্ছে। এতে নদীতে জেগে ওঠা চরের আয়তন বেড়ে যাবে এবং এতে লাভবান হবে চরের পাশের ভূমিদস্যুরা।

পটুয়াখালী-ঢাকা নৌ-রুটের এমভি কাজল-৭ লঞ্চের প্রথম মাস্টার মো. কামাল হোসেন বলেন, ড্রেজিং করে নদীর মাটি নদীতেই ফেলা হচ্ছে। এতে ক'দিন পর নদী আবারও ভরাট হয়ে যায়। বরং এ মাটি তীরে ফেলা হলে নদীর গতিপথ ঠিক থাকত এবং নাব্য সংকটও দূর হতো।

এ ব্যাপারে ড্রেজিং অপারেটর মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর মধ্যে যেখানে মাটি ফেলা হচ্ছে সেটা আমাদের চ্যানেলের বাইরে। আমাদের যে সাইড ইঞ্জিনিয়ার আছেন তিনিই মূলত দিকনির্দেশনা দেন এবং তার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করি।

সাইড ইঞ্জিনিয়ার হাসানুর জামান বলেন, বিআইডব্লিউটিএ থেকে যেসব চ্যানেলে কাজ করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমরা সে নির্দেশনা অনুযায়ী মাটি কাটছি এবং নদীতে ফেলছি। এতে নদীর চ্যানেলের কোনো সমস্যা হবে না।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, ড্রেজিং করে নদীতে মাটি ফেলা যাবে না। নদীর গতিপথ ঠিক রাখতে ও নাব্য সংকট দূর করতে ড্রেজিংয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে নাব্য সংকট থাকবে না এবং লঞ্চ চলাচলেও আর কোনো সমস্যা হবে না।