কবে টোল আদায় বন্ধ হবে

ফরিদপুরের গড়াই সেতু

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর

কবে টোল আদায় বন্ধ হবে

ফরিদপুরের কামারখালীতে গড়াই সেতুর নির্মাণ খরচ বহু আগে উঠে গেলেও আদায় করা হচ্ছে টোল (ইনসেটে টোলঘর)- সমকাল

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কামারখালীতে গড়াই নদীর ওপর অবস্থিত 'গড়াই সেতু'। এ সেতুটি উদ্বোধন করা হয় ১৯৯১ সালে। সেতুটি চালু হওয়ার পর গত ২৮ বছরে টোল আদায়ের মাধ্যমে সেতুটির নির্মাণ খরচ বহু আগেই উঠে গেছে। তার পরও চলছে টোল আদায়। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং সেতু দিয়ে যাতায়াতকারী গাড়ির চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ফরিদপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গড়াই সেতুটি ৬২২ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট। ১৯৯১ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেতুটির উদ্বোধন করেন। সেতুটির নির্মাণ খরচ হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা।

সর্বশেষ গত ১ জুলাই থেকে ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪০ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের জন্য এ সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স মোস্তফা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তিন দফায় ফরিদপুর সড়ক বিভাগকে এ টাকা পরিশোধ করার কথা। ফরিদপুর সড়ক বিভাগ এ পর্যন্ত ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ কোটি টাকা পেয়েছে। এই ১৮ কোটি টাকাসহ এ সেতু থেকে এ পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ১৪৭ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা। নির্মাণ খরচ উঠে যাওয়ার পর ঢাকা-আরিচা সড়কের মানিকগঞ্জ জেলায় অবস্থিত কালীগঙ্গা নদীর ওপর স্থাপিত ৬৬৪ মিটার দৈর্ঘ্যের তরা সেতুটি টোলমুক্ত করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে ওই সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে আর টোল দিতে হচ্ছে না। এটি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমান।

পাশাপাশি গড়াই সেতুটির নির্মাণ খরচের প্রায় তিনগুণ টাকা ইতিমধ্যে উঠে এলেও সেতুটি টোলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক এবং বাস ও ট্রাক মালিক এবং শ্রমিক সমিতির ক্ষোভের অন্ত নেই।

টেইলর (১২ চাকাবিশিষ্ট যানবাহন, যা মূলত বিদ্যুতের খুঁটি, ট্রেনের পাতসহ বিভিন্ন যানবাহন আনা-নেওয়ায় ব্যবহূত হয়) থেকে শুরু করে ঠেলাগাড়িকে এ সেতু পার হতে ৫ থেকে ৫৬৫ টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হচ্ছে।

২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে তিন বছরের জন্য টোল আদায়ের ইজারা পেয়েছে মেসার্স মোস্তফা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে টোল আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যবস্থাপক কার্তিক দত্ত জানান, প্রতিদিন গড়ে এ সেতু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার যানবাহন চলাচল করে।

একই দায়িত্বে নিয়োজিত ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্য ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান বলেন, এই টোলঘর থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা টোল আদায় করা হয়।

ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম ভূঁইয়া বলেন, টোলের এ টাকা আমরা মালিকরা নিজেদের পকেট থেকে দিই না, যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করি। টোল নেওয়া বন্ধ হলে আমাদের চলাচলে সময় বাঁচবে, পাশাপাশি উপকৃত হবেন যাত্রীরা।

ফরিদপুর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন বলেন, ওই সেতু দিয়ে প্রতিবার যাতায়াতের জন্য টাকা দিতে হচ্ছে। একটি ট্রাক দিনে ১০ বার আসা-যাওয়া করলে ১০ বারই টাকা দিতে হচ্ছে। সেতুর নির্মাণ ব্যয় উঠে গেলে টোল তুলে দেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম রকিবুল বারি বলেন, সড়ক বিভাগের উদ্যোগে গড়াই সেতুর টোল তোলা হলেও এ টাকা জমা হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সরকারের আয়ের যে কয়টি উৎস আছে সেতুর টোল তার মধ্যে একটি। সেতুর নির্মাণ খরচ উঠে গেলে টোল তুলে নেওয়া হবে- এ জাতীয় কোনো নির্দেশনা নেই। টোল তোলা-না তোলার  বিষয়টি নির্ভর করে মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি তুলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জানালে পর্যায়ক্রমে ফল পাওয়া যেতে পারে।

জেলার মধুখালী উপজেলার চেয়ারম্যান মো. আজিজার রহমান মোল্লা বলেন, আমরা আর কত বছর টোল দেব। এর একটা শেষ থাকা দরকার।