ছাগলনাইয়ায় ১৮ জন মৃত মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকারীদের ভাতা প্রদানে গড়িমসি করছে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়। অভিযোগে জানা গেছে, ছাগলনাইয়ার ৭৫৬ জন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে গত ১ বছরে বিভিন্ন সময় ১৮ মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। তারা হলেন- কাজী আনোয়ার, গোলাম শরীফ, আবদুল হামিদ, নুর ইসলাম, রোকেয়া বেগম, আবদুর রউফ, মকসুদ আহাম্মদ, মোতাহের হোসেন, সিরাজুল হক, সাইফুদ্দিন, গোল আফরোজ, খায়রুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, আবদুর রশিদ, জরিফা বেগম, খায়রের নেছা, আবুল কাশেম ও মফিজুর রহমান। তারা মারা যাওয়ার পর যথানিয়মে তাদের উত্তরাধিকারীরা ভাতার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেন।

যথাযথ নিয়মে আবেদন করার পর প্রায় ১ বছর অতিবাহিত হলেও ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবদুর রউফের ছেলে এরশাদ উদ জামান, মোতাহের হোসেনের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন শিকদার মামুন, গোলাম শরীফের ছেলে গোলাম রব্বানী, রোকেয়া বেগমের ছেলে শামছুদৌলাসহ অনেকে। এরশাদ জানান, তারা সপরিবারে চট্টগ্রাম থাকেন। বাড়ি ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কুহুমা গ্রামে। তার বাবা ২০১৮ সালের আগস্টে চট্টগ্রামে মারা যান। মারা যাওয়ার পর তার মা মরিয়ম নেছার নামে ভাতা ও দাফন-কাফনের টাকার জন্য যথাযথ নিয়মে আবেদন করেন। প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হলেও ভাতা ও দাফন-কাফনের টাকা পাননি। তিনি চট্টগ্রাম থেকে গত ৮ মাসে ১০ বারের মতো এসেও সংশ্নিষ্টদের মন গলাতে পারেননি। তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা খরচও চালাতে পারছেন না বলে জানান।

মৃত গোলাম শরীফের ছেলে গোলাম রব্বানী অভিযোগ করেন, তার বাবা ২০১৮ সালের জুনে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের আঁধারমানিক গ্রামে মারা যান। তারা ভাতার জন্য আবেদন করলেও ৯ মাস তাদের উপজেলায় আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। স্পষ্টভাবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের লোকজন হবে বা হবে না কিছুই জানাচ্ছে না।

ব্যাংক কর্মকর্তা মামুন জানান, যথাযথ নিয়ম মেনে কিছু হতে সময় লাগে। অল্প সময়ের মধ্যে ভাতাগুলো দেবে বলে সমাজসেবা অফিস জানিয়েছে। ঘোপাল ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, তার ইউনিয়নে ৪-৫ জন মৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার রয়েছে। তারা তার কাছে ভাতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সমাজসেবা অফিসে গেলে অফিস সহায়ক কাজী বেলাল হোসেন তাকে বলেন, এক বছর হয়েছে প্রয়োজনে আরও এক বছর লাগতে পারে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অফিসের এক কর্মচারী এই কথা বলায় তিনি অপমান বোধ করে আর অফিসে যোগাযোগ করেননি। এ ব্যাপারে বেলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতে তারা এই কাজ না করায় কাজটি বুঝে উঠতেও সময় লাগছে। ছাগলনাইয়া উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইউসুফ চৌধুরী জানান, এক বছর ধরে ভুক্তভোগীরা উপজেলায় যাওয়া-আসা করছে। আইনি কোনো জটিলতা না থাকলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ভাতা যথা শিগগির দিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান তিনি। ভাতা প্রদানে ছিনিমিনি করার বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর মিয়া জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা তিনি ছুটি থেকে এসে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

তিনি আরও জানান, কয়েকজনের ভাতা একত্র করে দেওয়ার জন্য এতদিন দেরি হয়েছে। দাফন-কাফনের ভাতা প্রদানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ নুরুল হুদা জানান, কয়েক জনের টাকা একত্র করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে দেরি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ টাকাগুলো দেওয়া হবে।

ইউএনও শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নিয়ে ছিনিমিনির বিষয়ে সমকালকে জানান, তিনি এর আগে বিষয়টি জানতেন না। আগামী ১০ দিনের মধ্যে যে কোনো মূল্যে তিনি এই ভাতা মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের হাতে তুলে দেবেন।

মন্তব্য করুন