উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের দুটি গ্রামে বুধবার বিকেলে দুই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করেছিল তাদের পরিবার। এর মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির, অন্যজন মাদ্রাসার ছাত্রী।

ইউনিসেফের 'সামাজিক যোগাযোগ ও আচরণগত পরিবর্তন' নামে প্রকল্পের এক সমন্বয়কারী বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, সচিব ও উপজেলা প্রশাসনকে জানান। পরে তাদের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে ওই দুই ছাত্রী রক্ষা পায়।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি একই ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং অন্যজন মাদ্রায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। জন্ম সনদ অনুযায়ী তাদের একজনের বয়স ১৩ বছর ১০ মাস। আরেকজনের ১৩ বছর ৭ মাস। স্টু্কলছাত্রীটির বর ছিলেন একই ইউনিয়নের কালাইকান্দি গ্রামের আরিফুল ইসলাম ও মাদ্রাসাছাত্রীটির বর ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকার রণি মিয়া। খবর পেয়ে ইউনিসেফের 'সামাজিক যোগাযোগ ও আচরণগত পরিবর্তন' নামে একটি প্রকল্পের ইউনিয়ন সমন্বয়কারী মো. মামুন মিয়া ওই দিন সকালে ও বিকেলে ওই দুই মেয়ের বাড়িতে যান। পরে পরিবারকে বোঝালেও বিয়ে বন্ধ করতে রাজি হয়নি। তারা প্রথমে দাবি তোলে- মেয়েদের প্রাপ্ত বয়সের চেয়ে বেশি হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম সনদ আছে। কিন্তু ওই সমন্বয়কারী জন্ম সনদ দেখতে চাইলে পরিবার দেখাতে পারেনি। বিষয়টি মামুন হাসান স্থানীয় চেয়ারম্যান তাহেরা খাতুন, সচিব সাফায়েত হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনকে জানান। পরে তাদের হস্তক্ষেপে

বিয়ে বন্ধ হয়।

ইউএনও মো. জাকির হোসেন বলেন, 'ছাত্রী দু'জনের পরিবারকে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে এই দুটি বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে দেবেন না বলে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে।

মন্তব্য করুন