মৌলভীবাজারের শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। ফলে হাইওয়ে পুলিশের ওপর পরিবহন শ্রমিকদের অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলার মিলনস্থল মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের পাশেই হাইওয়ে থানার অবস্থান। রাতের বেলা ওই চত্বরের আশপাশেই ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। প্রতিটি মালবোঝাই ট্রাক থেকে তারা আদায় করেন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদা দিতে না চাইলে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়। নয়তো অতিরিক্ত মাল বহনের অজুহাতে ট্রাক আটকে মালপত্র খালাস করে হয়রানি করে পুলিশ। চালক চাঁদা না দিয়ে দ্রুতগতিতে কেটে পড়ার চেষ্টা করেন কখনও কখনও। তখন পুলিশ ধাওয়া দিলে ঘটে দুর্ঘটনা।

এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটে গত রোববার রাতে সদর উপজেলার সরকারবাজার এলাকায়। সিলেট থেকে আসা পাথর বোঝাই একটি ট্রাক হাইওয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দ্রুত শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর হয়ে মৌলভীবাজারের দিকে চলে যাচ্ছিল। ট্রাকটির পিছু নেয় হাইওয়ে পুলিশের ভ্যান। সরকারবাজারের বরাকপুল এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে আহত হন চালক লিটন মিয়া ও তার সহকারী। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন। এর কয়েকদিন আগে একটি অটোরিকশার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি পুলিশ থানায় নিয়ে গেলে মালিক জাহির আলী ৫ হাজার টাকা দিয়ে সেটি ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ করেন।

শ্রমিক ইউনিয়ন শেরপুর শাখার সাবেক সভাপতি এহিয়া খান বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশ ট্রাকের পিছু ধাওয়া করায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

একই শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে মামলা-হামলাসহ

নানা নির্যাতন।

শেরপুর হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুল ইসলাম চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করে জানান, অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচলে কড়া নজরদারি করে পুলিশ। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ট্রাক উল্টে দুই শ্রমিক আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, পিছু নিয়ে ট্রাকটি আটকাতে না পেরে পুলিশ ফিরে এসেছিল।

মন্তব্য করুন