ব্রাহ্মণবাড়িয়া

খালে অবৈধ বাঁধ

৩০০ হেক্টর জমির ফসলহানির আশঙ্কা

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়া প্রতিনিধি

খালে অবৈধ বাঁধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শ্যামনগরে খালের মুখে বাঁধ দেওয়ায় বিলের পানি নিস্কাশন ব্যাহত হচ্ছে- সমকাল

আকাশে কালো মেঘ দেখলেই চোখ দিয়ে পানি ঝরে দ্বীন ইসলামের। আতঙ্কে থাকেন- এই বুঝি বৃষ্টি শুরু হলো। রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে ঘাম ঝরানো পয়সায় জমি চাষ করেন তিনি। সেই জমির ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি- এই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এ নিয়ে কথা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বরিশল গ্রামের দ্বীন ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'বুয়ালিয়া বিলে ৪ কানি (এক একর ২০ শতাংশ) ক্ষেত বাগি (বর্গা) করছি। এক কানি (৩০ শতাংশ) ক্ষেত লাগাইতে (রোপণ) ৩ হাজার ৫০০ ট্যাহা (টাকা) গেছে। বান (বাঁধ) দেওয়ায় এ ক্ষেতের ধান বাইত (বাড়ি) আনতে পারুম কি-না আল্লায় জানে। ধান না পাইলে পোলা-মাইয়া নিয়া না খাইয়া মরম।' দ্বীন ইসলামের মতো ৭ শতাধিক কৃষক এই শঙ্কায় রয়েছেন। তিতাস নদীর পাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শ্যামনগর মৌজায় একটি খাল দিয়ে বিলের পানি নিস্কাশনের মুখে বাঁধ দিয়ে মাটি ভরাট করার কারণে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ফসল না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, বুয়ালিয়া বিল আখাউড়া পৌর শহর লাগোয়া সদর উপজেলার বরিশল ও শ্যামনগর মৌজায় অবস্থিত। ওই বিলে এক ফসলি বোরো জমির পরিমাণ প্রায় ৬০০ হেক্টর। বিলের পানি নিস্কাশনে একটি খাল রয়েছে। ওই খাল দিয়ে তিতাস নদী থেকে পানি জোয়ার-ভাটায় আসা-যাওয়া করে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস আগে ওই খালের মুখে বাঁধ দিয়েছেন সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। তিনি শ্যামনগর মৌজার খাস জমি লিজ নিয়ে মাটি ভরাট করছেন। এতে বিলের পানি নিস্কাশনের খালের মুখে বাঁধ তৈরি করে পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ৬০০ হেক্টর জমির মধ্যে ৩০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ বিষয়ে বরিশল গ্রামের কৃষকরা বাঁধ নির্মাণকারী হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। কৃষকরা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দেন এসি ল্যান্ড বরাবর। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। পরে গত ৩ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেন কৃষকরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে মাটি দিয়ে ভরাট করে বুয়ালিয়া বিলের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে অনেক জমির ফসল নষ্ট করেছেন।

সদর উপজেলার বরিশল গ্রামের আলহাজ মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, এ বিলের অনেক ক্ষেতে ধানগাছের আগা পর্যন্ত পানি রয়েছে। আবার অনেক ক্ষেতে কোমর পানি। অনাবাদিও আছে জমি। বিলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তিতাস নদী। বিলের পানির চেয়ে তিতাস নদীর পানির স্তর অনেক নিচে। যে দিক দিয়ে বিলের পানি সরবে সেই স্থানে বাঁধ। একটু বৃষ্টি

হলেই পানিতে তলিয়ে যাবে পুরোবিল। খালটি উদ্ধার করে বাঁধ নির্মাণকারী হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার লিজ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া  বলেন, যেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে সে জায়গাটি এসএ ও বিএস খতিয়ানে প্রজার নামে। সেখানে কোনো খাস জমি নেই। ওই বাঁধ নির্মাণ করেছেন ভূমির মালিকরা। আমি কোনো বাঁধ নির্মাণ করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুন্সী তোফায়েল হোসেন বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছি, বর্তমানে ধানগাছের কোনো সমস্যা নেই। ভবিষ্যতে আকস্মিক বৃষ্টি ও বন্যা হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে ফসলের ক্ষতি হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।