প্রতারক খলিলকে পুলিশে দিল জনতা

৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদরের নান্দিনা বাজারের হায় হায় কোম্পানির মালিক প্রতারক খলিলুর রহমান বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। নান্দিনায় 'নিউ টেকনোলজি ডেইলিস লিমিটেড' নামে ডেসটিনির আদলে একটি হায় হায় কোম্পানি খুলে চাকরি দেওয়ার নামে গ্রামের নিরীহ মানুষের কাছ থেকে সে হাতিয়ে নেয় প্রায় চার কোটি টাকা। খলিলের প্রতারণা ফাঁস হয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ শত শত গ্রাহক গত বুধবার সংস্থার অফিস ঘেরাও করেন। তারা খলিলকে আটকে রেখে বেতন ও জামানতের টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

দেড় বছর আগে নান্দিনা কলেজ গেটের সামনে নিউ টেকনোলজি ডেইলিস লিমিটেড নামে একটি মালটিপারপাস কোম্পানি খোলেন জামালপুর সদরের লক্ষ্মীরচর উত্তরপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। পরে কিছু কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মীরা মাঠপর্যায় থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন। সংস্থার সদস্য হতে নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে একজন গ্রাহককে ৪০ হাজার টাকা জামানত দেওয়ার নিয়ম ছিল। জামানতের টাকা জমা হওয়ার পর ওই সদস্যকে ট্রেনিং দেওয়া হতো। পাশাপাশি প্রতি মাসে তাকে ১০ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী যারা মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন নেবেন পরে তাদের কমপক্ষে তিন-চারজন নতুন সদস্য এনে দিতে হবে। প্রথম অবস্থায় হাতে গোনা কিছু কর্মী ও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ঠিকঠাকমতোই বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছিল। পরে এর ব্যত্যয় ঘটে।

কিছুদিন ধরে গ্রাহকরা খলিলের ওপর বেতন অথবা জামানতের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। খলিলের টালবাহানার কারণে বুধবার শত শত নারী-পুরুষ গ্রাহক সংস্থার কার্যালয় ঘেরাও করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে সমঝোতার আশ্বাস দিয়ে খলিলকে নিয়ে যাওয়া হয় নান্দিনার রানাগাছা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। একপর্যায়ে সেখানেও উত্তেজিত গ্রাহকরা খলিলুর রহমান ও তার সংস্থায় কর্মরত কর্মচারীদের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়।

গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, খলিলুর রহমান একজন চিটার, বাটপার। সে আমাদের কাছ থেকে ৪০ হাজার করে টাকা নিয়ে এখন ১০ হাজার টাকা বেতন দেয় না। গ্রাহকরা আরও অভিযোগ করেন, তাদের টাকায় সে লক্ষ্মীরচরে গ্রামের বাড়িতে তিনতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছে। জামালপুর সদর থানার ওসি সালেমুজ্জামান বলেন, প্রতারক খলিলের বিরুদ্ধে গ্রাহক শামছুন্নাহার বাদী হয়ে প্রায় এক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছেন।