বীরাঙ্গনা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা পেলেন সরকারি জমি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধ কী, কখনও দেখেননি। জন্মদাতা বাবাকেও দেখেননি। অথবা কেউ দেখলেও মনে নেই বাবার চেহারা। শুধু শুনেছেন তাদের বাবা দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন। আবার কারও মা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে নির্যাতনের শিকার হয়ে ইজ্জত হারিয়েছেন। তাদের সন্তানরা দেশ স্বাধীনের পর নানাভাবে নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। তাদের কারও জমি নেই, আবার কারও জমি থাকলেও ঘর নেই। এমন চার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার মেয়েরা পেলেন খাস জমি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে অসহায় চার নারীকে জমি বন্দোবস্ত বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সরকারি খাস জমি পেয়ে বর্তমান সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মুক্তাগাছায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালে দেশের জন্য ৫ শতাধিক মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তারা ৬ জন কোম্পানি কমান্ডারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সরকারি খাতায় মুক্তাগাছায় ৪৬৫ জনের নাম রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। তাদের মধ্যে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা দেশের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন। ৭ জন গুরুতর আহত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন। ওই সময় অসংখ্য নারী পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ইজ্জত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে মুক্তাগাছায় সরকারি খাতায় তিন নারী বীরাঙ্গনা খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সন্তানরা দেশ স্বাধীনের পরও স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমন কয়েকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রয়েছেন যারা জন্মের আগেই তাদের বাবাকে দেশ স্বাধীনের জন্য হারিয়েছেন। মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় বড় হন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সমাজে তাদের বেড়ে উঠতে হয়। এ সব পরিবারের সদস্যদের কারও জমি নেই। আবার কারও জমি থাকলেও বাড়ি নেই। এমন চার নারী সদস্যকে খুঁজে বের করেন মুক্তাগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব উল আহসান। গত বিজয় দিবসে নন্দীবাড়ির শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী একমাত্র মেয়ে শাহিদা খাতুন, ঘাটুরীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিনের একমাত্র মেয়ে মমতাজ বেগম, পয়ারকান্দির শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হকের স্ত্রী আসমা খাতুন ও পাইকাশিমুলের বীরঙ্গনা খেতাবে ভূষিত গোলাপজান বেওয়ার মেয়ে আলেমন বেওয়াদের নামে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার মুক্তাগাছার রায়থুরা গ্রামে তাদের কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ইউএনও সুবর্ণা সরকার বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মাঝ থেকে সবচেয়ে অসহায় চারজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য ওই জমিতে একটি করে ঘরও নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ওই এলাকা বীরাঙ্গনা গোলাপজান বেওয়া পল্লী হিসেবে নামকরণ হবে।