লবণাক্ততা জয় করে সবুজে সমারোহ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা

লবণাক্ততা জয় করে সবুজে সমারোহ

শ্যামনগরে সবজি ক্ষেতে কাজ করছেন এক নারী- সমকাল

লবণাক্ততা জয় করে কৃষি উৎপাদনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বড় কুপট এলাকার কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। যেখানে আগে লবণাক্ততার কারণে ফসল ফলানো সম্ভব হতো না, এখন সেখানে সবুজ ফসলের সমারোহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অ্যাপসের মাধ্যমে গৃহীত পরামর্শ কৃষি আবাদের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি এমনকি মৎস্য চাষেও এনেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন বড় কুপটের উঠানে উঠানে সবুজ ফসলের জয়গান। রয়েছে দেশি মুরগির খামারও, যা পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলেছে। এখানকার নারীরা এখন ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোসহ পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও রাখছেন ভূমিকা।

জানা গেছে, বড় কুপট গ্রামের নারীরা স্মার্টফোনে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদবিষয়ক তথ্য নিয়ে বাড়ির উঠানের লবণাক্ততার মাঝেও কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টি ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এসব অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকের জানালা, প্রতীক কৃষি সেবা, মৎস্য প্রযুক্তি ভাণ্ডার, হাঁস-মুরগি, ছাগল পালন, স্বাস্থ্য কথাসহ নানা বিষয়ে জানতে পারছেন। আর এ কাজে অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফামের সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা সুশীলন প্রতীক প্রকল্পের আওতায় (প্রতীক- পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ওনারশিপ উইথ টেকনোলজি ইনফরমেশন অ্যান্ড চেঞ্জ) তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও স্মার্টফোন দিয়ে সহায়তা করছে।

এর মাধ্যমে এখানকার কৃষাণিরা লবণাক্ত জমিতে ফসল উৎপাদন শুধু নয়, ফসল রোগাক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতীক কল সেন্টারে ফোন করে পাচ্ছেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। তাতে সমাধান না হলে স্মার্টফোনে রোগাক্রান্ত অংশের ছবি তুলে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তাদের ফেসবুক ও প্রতীক কৃষি তথ্য সার্ভিসের ম্যাসেঞ্জারে। এসব সেবা প্রদান ছাড়াও প্রতীক থেকে প্রতি সপ্তাহে তাদের একটি করে কৃষিবিষয়ক এসএমএস ও আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত বিষয়ে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয়। পাঠানো হয় ওবিডি।

শুধু কৃষি উৎপাদন নয়, অ্যাপসের মাধ্যমে তথ্য সেবা পেয়ে বাড়ির হাঁস-মুরগির মড়ক ঠেকিয়ে এখন বড় কুপটের প্রত্যেক বাড়িই যেন একেকটি দেশি মুরগির ফার্ম। এর মাধ্যমে ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ও করছেন তারা। একইভাবে বাড়িয়েছেন মৎস্য উৎপাদনও।

পবিত্র বৈদ্যর স্ত্রী স্বপ্না বৈদ্য বলেন, লবণাক্ততা প্রতিরোধে সক্ষম হওয়ায় তার বাড়ির উঠানে এ বছর বিট কপি, পাতাকপি, আলু, ওলকপি, মরিচ, টমেটো, গাজর, ভুট্টা, লালশাক, পালনশাক, বেগুনসহ অন্যান্য ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে।

সুশীলনের প্রতীক প্রকল্পের ফোকাল পারসন মোস্তফা আক্তারুজ্জামান বলেন, 'প্রতীক' মূলত গবেষণাধর্মী একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় ১০০ নারী গণগবেষককে প্রশিক্ষণ ও স্মার্টফোন দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন মিয়া বলেন, প্রতীক প্রকল্পের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে বড় কুপট এখন ফসল মডেল গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন বলা যায়।