নদীর মাটি ফেলা হচ্ছে নদীতে

মাগুরায় ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে নবগঙ্গা খনন কাজ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

অলোক বোস, মাগুরা

নদীর মাটি ফেলা হচ্ছে নদীতে

মাগুরার নবগঙ্গা নদীর ১১ কিলোমিটার খনন কাজ চলছে- সমকাল

মাগুরা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোট-বড় একাধিক নদনদী। তবে জেলা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদীই মাগুরাবাসীর প্রাণ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পলি পড়ে ভরাট হওয়া এই নদীর নাব্য ফেরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে মাগুরা শহরের মধ্যে ১১ কিলোমিটার এলাকায় শুরু করেছে খনন কাজ। তবে এলাকাবাসী বলছেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এ খনন কাজ শুরু করা হলেও নদীর মাটি কেটে নদীতেই ফেলা হচ্ছে। অন্যদিকে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দীর্ঘ এ নদী কেটে পরিণত করা হচ্ছে খালে।

নবগঙ্গা নদী জেলার শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলা হয়ে মাগুরা শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যা ঝিনাইদহে গিয়ে সরু খালে পরিণত হয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মিশেছে মাথাভাঙ্গার সঙ্গে। তবে এক সময়ের যৌবনদীপ্ত নবগঙ্গার মূল অংশ প্রায় একশ' কিলোমিটার নদীই প্রবাহিত হয়েছে মাগুরা জেলার ওপর দিয়ে। পলি পড়ে মৃতপ্রায় এই নদীর নাব্য ফেরাতে মাগুরা শহর এলাকায় ১১ কিলোমিটারে চলছে খনন কাজ। যেখানে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ কোটি টাকা।

তবে এলাকাবাসী বলছেন, মাগুরা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত এ নদীর চওড়া পাচশ' থেকে ছয়শ' ফুট হলেও খনন করা হচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ ফুট এলাকা। অন্যদিকে নদীর পাড় থেকে তলদেশ পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ ফুট গভীর করা হচ্ছে। দায়সারা গোছের এ খনন কাজ করে নদীর মাটি নদীর পাড়েই ফেলে রাখা হচ্ছে।

শফিকুর রহমান, রেজাউল হোসেনসহ একাধিক এলাকাবাসী বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নদী কেটে খালে পরিণত করা হচ্ছে। অন্যদিকে খনন করা মাটি পাড়ে ফেলে রাখায় বৃষ্টিতে ধুয়ে যা আবারও নদীতে গিয়ে পড়বে।

নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতা সৈয়দ বারিক আনজাম বলেন, একে তো অপরিকল্পিতভাবে নবগঙ্গা নদী কেটে খালে পরিণত করা হচ্ছে, অন্যদিকে ১১ কিলোমিটার খনন কাজ পরিচালিত হলেও নদীর উজান এবং ভাটিতে অসংখ্য স্থানে চর পড়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে তিনি মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে গোটা নদী খনন করা উচিত। না হলে শুধু শুধু সরকারি টাকার অপচয় হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ম্যানেজার রতন কুমার বলেন, তারা শিডিউল অনুযায়ী ৮০ ফুট চওড়া ও ১৬ ফুট গভীরতার কাজ করছেন। তাদের কাজে কোনো অসঙ্গতি নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের তদারকি কমিটি তাদের কাছ থেকে শতভাগ কাজ বুঝে নিচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম খান মোজাহেদী বলেন, সঠিকভাবে কাজ চলছে। তবে তিনি স্বীকার করেন গোটা নদীই খনন করা প্রয়োজন। কারণ নদীর উজান ও ভাটায় অনেক চর রয়েছে, যা না কাটলে নদী নাব্য ফিরে পাবে না। জেলা প্রশাসক মো. আলী আকবর বলেন, নবগঙ্গা নদী খনন কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে তদারকি কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উপসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা খনন কাজ পরিদর্শন করেছেন। কিছু কিছু এলাকায় কাজ সঠিকভাবে হলেও কিছু এলাকায় খনন কাজে অসঙ্গতি রয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদারকি কমিটির অন্যতম সদস্য বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন করে খাল বানানো হচ্ছে। অন্যদিকে নদীর মাটি নদীর পাড়েই ফেলা হচ্ছে। বৃষ্টিতে যা আবার নদীতে গিয়ে পড়বে।