ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে তেল লুট

নারায়ণগঞ্জে মামলার বাদী গ্রেফতার

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে তেল লুটের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার বাদী এবং পরে ডিবি পুলিশের দায়ের করা চোরাই তেল উদ্ধার মামলার আসামি ইকবাল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। শুক্রবার ভোরে কেরানীগঞ্জ থানার জাজিরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত বুধবার তেল ব্যবসায়ী ইকবাল চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত ১০ মার্চ ইকবাল চৌধুরীর ফতুল্লার প্রতিষ্ঠান থেকে ডিবি পুলিশ ৭২ ব্যারেল জ্বালানি তেল তিনটি ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন চোরাই তেল উদ্ধার দেখিয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ইকবাল চৌধুরীসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করে ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দু'দিনের মাথায় শুক্রবার ভোরে ইকবাল চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ইকবাল চৌধুরী ফতুল্লা বালুরঘাট এলাকায় চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেলের ব্যবসা করেন। ১০ মার্চ বিকেলে ডিবি পুলিশের এসআই আলমগীর ও এএসআই জাহাঙ্গীর ইকবাল চৌধুরীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। প্রতিষ্ঠানে ইকবাল চৌধুরী না থাকায় তার ভাই রুবেল চৌধুরীর কাছে ইকবাল চৌধুরীর খোঁজ চান তারা। একপর্যায়ে তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এসআই আলমগীর, এএসআই জাহাঙ্গীর ও সোর্স আনোয়ার ওই প্রতিষ্ঠানের গোডাউনের তালা ভেঙে সেখান থেকে ৭২ ব্যারেল তেল বের করে তিনটি ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যান।

অন্যদিকে, অভিযানে ৫৭ ড্রাম চোরাই জ্বালানি তেল জব্দ করা হয় বলে দাবি করছে ডিবি। ওই ৫৭ ড্রামের মধ্যে সাত হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল, তিন হাজার ৬০ লিটার অকটেন ও ৩৬০ লিটার পেট্রোল মজুদ ছিল। চোরাই তেল উদ্ধারের ঘটনায় ডিবির এসআই আব্দুল জলিল মাতুব্বর বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় গোডাউনের মালিক ইকবাল হোসেন চৌধুরী, রুবেল, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেন রাসেল, ইব্রাহিমসহ ১৫-১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।