নারায়ণগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু স্বামী-শ্বশুর আটক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের টানবাজার সাহাপাড়া এলাকায় বৃষ্টি রায় চৌধুরী নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর স্বামী ও তার পরিবার বলছে বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শহরের টানবাজার সাহাপাড়ার গিয়াস উদ্দিনের বাড়ির সপ্তমতলা থেকে অচেতন অবস্থায় বৃষ্টিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় সদর থানা পুলিশকে খবর দেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নূরুজ্জামান বলেন, বৃষ্টি চৌধুরীর শরীর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। স্বামী সুদীপ ও শ্বশুর সুভাষ চন্দ্র রায়কে হাসপাতাল থেকে আটক করেছে পুলিশ। সুদীপ পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা।

নিহতের স্বামী সুদীপ রায়ের দাবি, তার স্ত্রী পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে আত্মহত্যা করেছে। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রতিদিনই ঝগড়া হতো। শুক্রবার দুপুরে ঘরের দরজা বন্ধ করার পর অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে বৃষ্টির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে তিনি হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

নিহত গৃহবধূর ভাই মিঠুন অভিযোগ করেন, বৃষ্টিকে হত্যা করেছে তার স্বামী সুদীপ, শ্বশুর সুভাষ, ননদ ডেইজিসহ পরিবারের লোকজন। বিয়ের সময় ১৫ লাখ টাকা যৌতুক নেওয়ার পর আরও যৌতুক দাবি করে আসছিল তার শ্বশুর ব্যবসায়ী সুভাষ, সুদীপ ও তার বোন ডেইজি। এক বছর আগে বৃষ্টির সন্তান শুভদ্বীপ জন্মের মাত্র আট দিনের মধ্যে বৃষ্টিকে মারধর করে বাবার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর থানার ছালিয়াকান্দি পাঠিয়ে দেয় তারা। দ্বন্দ্বের কারণে বিয়ের দুই বছরের মধ্যে বহুবার সালিশও হয়েছে। গত কয়েকদিন যাবত যৌতুকের কারণে মারধর করত বলেও বৃষ্টির বাবা শ্যামল চৌধুরী জানতে পারেন। বিষয়টি কয়েকবার শ্যামল চৌধুরী তার বোনের জামাই নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী প্রবীর সাহাকে জানান।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি রায় নামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ও শ্বশুরকে থানায় আনা হয়েছে। ঠিক এখনই বলা যাবে না আসলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না।