রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এমপির

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

ঝালকাঠির রাজাপুরে উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম খায়রুল আলম সরফরাজের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর চিঠি দিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিএইচ হারুন।

৯ এপ্রিল সাংবাদিকদের হাতে এসে পৌঁছেছে এমপির স্বাক্ষরিত সেই কাগজের কপি। ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে এমপি বিএইচ হারুনকে জড়িয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যে অভিযোগ করেছেন, তা সঠিক নয়। বিএইচ হারুনসহ ১৭ নেতার বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তিনি এবং সুসংগঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা করছেন। এমপি হারুন আরও উল্লেখ করেন, উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে অদ্যাবধি তিনি নির্বাচনী এলাকায় যাননি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক গত ১ এপ্রিল নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর অভিযোগ করেছেন। অথচ অভিযোগের শুরুতেই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার অভিযোগটি যে পূর্বপরিকল্পিত এবং মিথ্যা ও বানোয়াট, তা এখানে প্রমাণ রেখেছেন। এমপি তার অভিযোগে দাবি করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কিছু বহিরাগত ও স্বার্থান্বেষী মহলের উস্কানিতে উপজেলা আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাঁয়তারা করছেন।

এমপি হারুন তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিকভাবে জেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম খায়রুল আলম সরফরাজ বলেন, 'আমি নৌকায় ছিলাম, নৌকায় আছি বরং তিনি (এমপি) নৌকার বিরোধিতা করে প্রার্থী দিয়েছেন এবং যে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে তার ভাইসহ চারজন ইউপি চেয়ারম্যানকে তার পক্ষে নিয়ে এবং বিভিন্ন স্থানে ফোন করে আওয়ামী লীগের লোকজনকে তার পক্ষে কাজ করার জন্য অনুরোধ ও চাপ সৃষ্টি করেছেন, যা রাজাপুরে মিটিংয়ে এসে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও বাস্তবতা দেখে গেছেন।' বিএইচ হারুন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে এভাবে লিখতে পারেন না। দেড় যুগ ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনকে অত্যন্ত সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দলীয় সব নেতাকর্মীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করেছি।