'৭১-এর এই দিনে হত্যা করা হয় একই পরিবারের ১২ জনকে

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

ঘরের মেঝে, উঠান, আঙিনায় ছোপ ছোপ রক্ত, এখানে সেখানে রক্তের স্রোতধারা। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ১২টি রক্তমাখা নিথর দেহ। চোখের সামনে প্রাণপ্রিয় বাবা-মা, ভাই-বোনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যার এ দৃশ্য দেখে তিন অবুঝ শিশু মাধব, গৌরাঙ্গ ও গৌতমের গগনবিদারী চিৎকারে সেদিন ঈশ্বরদীর পরিবেশ ভারি হয়ে উঠলেও কেউ এগিয়ে আসার সাহস পর্যন্ত পায়নি। ঈশ্বরদীর ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সংঘটিত সবচেয়ে নৃশংস ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ এটি।

অথচ মুক্তিযুদ্ধকালীন ঈশ্বরদীর সবচেয়ে নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞের কথা ভুলতে বসেছে সবাই। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না ওই দিন কী ঘটেছিল হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ঈশ্বরদীর নূর মহল্লায়। সে সময়ের ব্যবসায়ী চন্দ্রকান্ত পালের বাড়িতে একাত্তর সালের ১৩ এপ্রিল সকালে ঈশ্বরদীর সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। পরিবারটির ১২ সদস্যকে একে একে নৃশংসভাবে হত্যার পর ৪৮ বছর পেরিয়ে গেছে। আজও পরিবারটি পায়নি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি।

নূর মহল্লা কর্মকারপাড়া এলাকার ঈশ্বরদী বাজারের পাল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পাল সুইটসের স্বত্বাধিকারী গৌরাঙ্গ চন্দ্র পাল সে সময়ের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে বেঁচে যাওয়া একজন। তিনি জানান, ওই দিনটি ছিল তাদের পরিবারের জন্য বিভীষিকাময়। কয়েকজন নির্দয় স্বাধীনতাবিরোধী তার দাদু, বাবা-মা, কাকা-কাকি, ভাই-বোনসহ পরিবারের ১২ জনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। বিহারিরা নারান নামে এক সুইপারকে লাশগুলো বাড়ির মধ্যেই বড় একটি গর্ত করে পুঁতে ফেলতে বলে। পরে ওই সুইপার তার বাড়িতে নিয়ে তাদের আশ্রয় দেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল খালেক জানান, নৃশংস ও নারকীয় ওই হত্যাযজ্ঞের ঘটনাটি আমরা তালিকাভুক্ত করেছি। পরিবারটি অবশ্যই শহীদ পরিবারের তালিকায় স্থান পাওয়ার দাবি রাখে।