ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে শিশুকে হাসপাতাল থেকে অপহরণ

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে এক ছাত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে ক্রমাগত ধর্ষণ করেছে তারই গৃহশিক্ষক। এরপর শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে তাকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিশুটি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাতিকাটা শেখ মনি জ্ঞানেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। এ ব্যাপারে ১০ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত বাদী হয়ে মনোজ কুমার বিশ্বাস ও শাহজাহান শেখের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছেন।

সুরেশ চন্দ্র দত্ত বলেন, হাতিকাটা গ্রামের উত্তম বিশ্বাসের ছেলে মনোজ কুমার বিশ্বাস ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতো। ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ছাত্রীটিকে মনোজ তার বাড়িতে নিয়ে গত বছরের ১ নভেম্বর প্রথম ধর্ষণ করে। গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় সে। গোপান রাখার শর্তে মেয়েটি বিষয়টি তার সহপাঠীদের জানায়। ৯ এপ্রিল স্কুলে এসে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ সময় তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে ইউপি চেয়ারম্যান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ইউপি মেম্বার, স্থানীয় ক্লাবের সভাপতি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সামনে ওই ছাত্রী ধর্ষণের বর্ণনা দেয়। এ সময় তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই ওই ছাত্রীকে হাসপাতাল থেকে অপহরণ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার হাসান শেখ এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনোজকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। মেম্বারের ভয়ে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর মা-বাবা পলাতক রয়েছেন। এ অবস্থায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মামলা করেছেন। পাশাপাশি ওই ইউপি মেম্বারের ভাই শাহজাহান শেখ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি মেম্বার হাসান শেখ বলেন, মনোজ আমার দল করত। কিন্তু তাকে পালিয়ে যেতে আমি কোনো সহায়তা করিনি। তাছাড়া ওই ছাত্রীর মা-বাবাকেও আমি কোনো ভয়ভীতি দেখাইনি। প্রতিপক্ষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই বকুল বলেন, হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রীকে কৌশলে শাহজাহানসহ তিন-চারজন অপহরণ করে নেয়। এ কারণে ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতেই ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছি।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। শনিবার অফিসে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।