শিক্ষকের যৌন হয়রানি থেকে মুক্তি চায় ছাত্রীরা

নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ্‌-দৌলা সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

নাটোর প্রতিনিধি

'আপনারা আমাদের এ অসহায়ত্বের ঘটনা তুলে ধরুন। আমরা নিরাপদ কলেজ চাই। আমরা চাই না, এ অন্যায় সহ্য করে আমাদের সহপাঠী আত্মহত্যা করুক বা তার ভাগ্য নুসরাতের মতো হোক। আপনাদের কাছে হাতজোড় করে বলছি, আমাদের পাশে দাঁড়ান।'

নাটোরের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের কাছে এভাবেই নিজেদের অসহায়ত্ব বর্ণনা করে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন নবাব সিরাজ-উদ্‌-দৌলা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ছাত্রীরা। বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী ওই বিভাগের এক শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন- এমন অভিযোগ এনে যৌন হয়রানি থেকে মুক্তি ও নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে নাটোর প্রেস ক্লাব ও বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ছাত্রীরা। চিঠিতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের প্রাইভেট বাণিজ্যের আড়ালে যৌন হয়রানি এবং তা ধামাচাপা দিতে অনান্য শিক্ষক ও ছাত্র নেতৃবৃন্দের ভূমিকার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে চিঠিটি স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছালে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে চিঠিতে তারিখ হিসেবে ১০ এপ্রিল উল্লেখ আছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠিটি ভাইরাল হলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের নজরে আসে।

চিঠিতে ছাত্রীরা লিখেছেন, 'আমরা নাটোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এনএস সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হয়েও অনিরাপদ বোধ করছি, যার কারণ আমাদের বিভাগের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের প্রাইভেট বাণিজ্যের শিকার হয়ে নিজেদের সল্ফ্ভ্রম অক্ষুণ্ণ রাখতে ব্যর্থ হচ্ছি। শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া হয় বলেই তাদের কাছে পড়তে যেতে বাধ্য হই। আর পড়তে গিয়ে হই সম্মানহানির শিকার।'

ওই চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, 'এখন আমরা ক্লাসে যেতে ভয় পাচ্ছি। দিন দিন স্যাররা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ছাত্রনেতারা টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে, তাই তাদের বলেও কোনো বিচার পাচ্ছি না। স্যাররা পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ...আমরা নিরাপদ কলেজ চাই।'

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সামসুজ্জামান বলেন, একজন ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে শুনেছি। ছাত্রীরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনে কমিটি করে পুরো ঘটনা তদন্ত করা হবে। দোষ প্রমাণ হলে সংশ্নিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার বিবরণ দিয়ে লেখা চিঠির ব্যাপারে জেনেছি। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। সেই সঙ্গে ভিকটিম বা ছাত্রীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা পুলিশকে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ বলেন, নিজ ক্যাম্পাসে ছাত্রীরা নিরাপদ বোধ না করা মানে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হওয়া। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।