ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে যান চলাচল

আখাউড়া স্থলবন্দর

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

নাসির উদ্দিন, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে যান চলাচল

আখাউড়ার গাজীরবাজার এলাকার জাজির নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু- সমকাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন জাজির নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজের দুটি পিলার দেবে গেছে। দেবে যাওয়া এ ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে ধারণ ক্ষমতার বেশি ওজন নিয়ে চলাচল করছে ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

দেশের অন্যতম রফতানিমুখী স্থলবন্দর হলো আখাউড়া স্থলবন্দর। ভারতের ত্রিপুরাসহ সাতটি রাজ্যে বিভিন্ন পণ্য এই বন্দর দিয়ে রফতানি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রফতানির পণ্য নিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি পণ্যবোঝাই ট্রাক আসে আখাউড়া স্থলবন্দরে। ধরখার থেকে আখাউড়ার নারায়ণপুর বাইপাস ও সুলতানপুর থেকে নারায়ণপুর বাইপাস পর্যন্ত দু'দিক থেকে দুটি সড়ক এসে নারায়ণপুর বাইপাসে মিলিত হয়ে স্থলবন্দর গেছে। আখাউড়ার নারায়ণপুর থেকে স্থলবন্দরে আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। স্থলবন্দরের সব যানবাহনসহ সীমান্ত-ঘেঁষা ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কও এটি। এ সড়কের গাজীরবাজার এলাকার জাজির নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটির নিচে একটি ইটের ও একটি লোহার তৈরি পিলার দেবে গেছে। ওই দুই পিলার ব্রিজের পাটাতন থেকে ৩-৪ ইঞ্চি সরে গেছে এবং পাটাতনের জয়েন্ট খুলে গেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্রিজটি। এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন ভারতে রফতানিকৃত ভারী পণ্য রড, সিমেন্ট, পাথরসহ বিভিন্ন ভারী পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও সংশ্নিষ্টদের কোনো নজর নেই।

স্থলবন্দরে রফতানির পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালক সেলিম মিয়া বলেন, নিচের দিকে দেবে যাওয়া ব্রিজটিতে ট্রাক নিয়ে উঠলে ভয় করে। মনে হয় যে কোনো সময় ব্রিজ ভেঙে নিচে পড়ে যাব।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হলেও এর সমাধান হচ্ছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বন্দরে আসা-যাওয়া ট্রাকগুলো পারাপার হচ্ছে। তাছাড়া সীমান্ত এলাকার ১০ গ্রামের লোকও এ পথে চলাচল করে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম আল মামুন বলেন, এ ব্রিজটির ধারণক্ষমতা ১০ টন। বন্দরে আসা ট্রাকগুলো ২৫ থেকে ৩০ টন ওজন বহন করে ওই ব্রিজ দিয়ে পারাপার হয়। এই কারণে ব্রিজটি দেবে গেছে। তিনি আরও বলেন, আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেন সড়ক প্রকল্পের আওতায় ওই ব্রিজটি।

আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কের চার লেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সাহারুল আমিন বলেন, ওই প্রকল্পের ধরখার থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটির এখনও টেন্ডার হয়নি। তবে সড়কটি সচল রাখার জন্য ওই প্রকল্প নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণ খাত থেকে ব্রিজ মেরামতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে সওজ ও সেতু বিভাগে।