১৪ গ্রামবাসীর নামে মামলা গ্রেফতার আতঙ্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৯      

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

কালিয়াকৈর উপজেলার দোয়ানিচালা এলাকায় একটি অবৈধ কেমিক্যাল তৈরি কারখানা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভরত গ্রামবাসী-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই কারখানার এক পরিচালক বাদী হয়ে ১৪ গ্রামবাসীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫-৩০ জনের নামে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ বুধবার সকালে মামলাটি করে তদন্তকাজ শুরু করেছে। তবে মামলার বাদীর দাবি, ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার তাকে ডেকে এনে এ মামলা করিয়ে নিয়েছেন। মামলার খবর গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ঘটনাস্থল দোয়ানিচালা গ্রামে সভা করেছেন এসিড কারখানা বন্ধের দাবির আন্দোলনের নেতা মধ্যপাড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন তুলা মিয়া।

বুধবার থানায় একটি মামলা করেন কারখানার পরিচালক কে এম শিহাব উদ্দিন। তিনি বাদী হয়ে গ্রামের ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২৫-৩০ জনকে মামলায় আসামি করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- মিজানুর রহমান, আয়েন আলী, আমির হোসেন, মো. হাশেম, সিরাজুল ইসলাম, জামিরুল ইসলাম, জামাল মিয়া, মো. তুহিন, মো. সজীব, নাইম হোসেন, মঞ্জু মিয়া, মো. রনি, তারিফ হোসেন ও নাজমুল ইসলাম।

মধ্যপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আন্দোলনরত নেতা নাছিম কবীর জানান, কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেনের ষড়যন্ত্রে নিরীহ গ্রামবাসীর নামে কারখানা ভাংচুরের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তিনি মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় এলাকার ১০ গ্রামের শত শত গ্রামবাসীকে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

কারখানার পরিচালক কে এম শিহাব উদ্দিন বলেন, আমি তো মামলা করিনি। থানার ওসি মামলা করতে বলেছেন, তাই মামলা করেছি।

ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, কারখানায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় কারখানার মালিক একটি মামলা করেছেন। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। ইউএনও কাজী হাফিজুল আমীন বলেন, মামলার বিষয়টি ওসি আমাকে অবগত করেছেন। তবে কোনো গ্রামবাসীকে যেন হয়রানি করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।