সোয়া দুই লাখ মানুষের সেবায় ৫ জন চিকিৎসক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৯      

ফিরোজ মাহমুদ, নাজিরপুর (পিরোজপুর)

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১৬ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু এখনও চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী এখানে ১৮ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৭ জন। তাদের মধ্যে দু'জন এখানে যোগদানের পর থেকেই প্রেষণে ঢাকায় চাকরি করছেন। বর্তমানে আছেন মাত্র ৫ চিকিৎসক। এই ৫ চিকিৎসককে উপজেলার প্রায় সোয়া দুই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ ছাড়া ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৫৪টি পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা এখানে না থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীদের বাড়তি টাকা ব্যয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এসব সংকটের কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কর্মরত চিকিৎসক ও সংশ্নিষ্টদের খামখেয়ালিপনায় ব্যাহত হচ্ছে উপজেলাবাসী স্বাস্থ্যসেবা।

হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মৃণাল হালদার বলেন, কয়েক দিন আগে উপজেলার ডুমুরিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এক অন্তঃসত্ত্বাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই মা ও সন্তানকে রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তারকে পাওয়া যায়নি। ওই সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার রোকসানা ফেরদৌসের থাকার কথা থাকলেও তিনি বাসায় রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে মুমূর্ষু রোগীর কথা জানালেও তিনি আড়াই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১২টায় এসে ওই রোগীর চিকিৎসা দেন।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, কয়েক দিন আগে উপজেলার গাঁওখালী এলাকার একটি বাচ্চা ছেলে গাছ থেকে পড়ে আহত হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে এখান থেকে খুলনায় রেফার করা হয়। হাসপাতাল থেকে ওই রোগী অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাটুকুও পায়নি। অন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে খুলনা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটি ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. প্রীতীশ বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে ডাক্তারের শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত রয়েছেন। চিকিৎসার মান বৃদ্ধি করতে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক সচেষ্ট রয়েছেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে প্রতি মাসেই নরমাল ও সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি করানো হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও ৩১ শয্যার জনবলও এখানে নেই। এখানে কাগজে-কলমে ৭ চিকিৎসক কর্মরত আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ডা. মোহাম্মদ মাঈনুল হাসান আবিদ ও ডা. কিষাণ সরকার যোগদানের পর থেকেই এখানে দায়িত্ব পালন না করে প্রেষণে ঢাকায় রয়েছেন। বর্তমানে মাত্র ৫ চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের যাবতীয় সমস্যা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তবুও কোনো কাজ হচ্ছে না।