দাখিল পাস শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছে না

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

বানারীপাড়ায় দাখিল পাস করা শিক্ষার্থীরা অন্য মাদ্রাসা বা কলেজে ভর্তি ও আবেদন করতে পারছে না। বানারীপাড়া মাহমুদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করা গোলাম রাব্বি চার দিন ঘুরেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারছে না। তার অজান্তে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আলিম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করে রেখেছে।

ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইতে মাদ্রাসায় গিয়ে অফিস, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষের কাছে বার বার আবেদন করেও কোনো সুরাহা করতে না পেরে ইউএনওর কাছে আবেদন করে। সোমবার ইউএনও শেখ আব্দুল্লাহ্‌ সাদীদ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কাগজপত্র দিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেও তা বুধবার পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে বারবার ফোন করলে প্রথমে রিসিভ করেননি। মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর জলিলের সঙ্গে কথা বললে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে ইউএনও শেখ আব্দুল্লাহ্‌ সাদীদের সঙ্গে কথা বললে তিনি আশ্চর্য হয়ে বলেন, এখনও কাগজপত্র দেয়নি!

একইভাবে বানারীপাড়া আহম্মদাবাদ হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসার দাখিল পাস করা শিক্ষার্থী মো. আজিজুল হক, মো. রিফাত মৃধা, মো. বায়েজিদ ও মো. রনি তাদের পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারেনি। এ বিষয়টি অস্বীকার করে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিম খান বলেন, যাদের কাছে মাদ্রাসার বেতনসহ অন্যান্য টাকা পাওনা রয়েছে তাদের ওই টাকা পরিশোধ করে মার্কশিট নিতে বলা হয়েছে।

উপজেলার মসজিদবাড়ি আলিম মাদ্রাসা ও কচুয়া নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই তাদের পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন করতে পারছে না। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করলেও সংশ্নিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিষয়টি অস্ব্বীকার করেছে। একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কচুয়া নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুল ইসলাম।

বানারীপাড়া উপজেলায় ৩টি ফাজিল, ৭টি আলিম ও ৯টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। এসব মাদ্রাসার বেশিরভাগ শিক্ষকই দাখিল ও আলিম শ্রেণি থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধরে রাখার জন্য পাস করা ওই শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর ও অন্যের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে গোপনে অনলাইনে অলিম কিংবা ফাজিল শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করে রাখেন।