দুস্থদের পাঁচ মাসের চাল পড়ে আছে গুদামে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

মোতাহার হোসাইন, কেশবপুর (যশোর)

কেশবপুরের ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্বে আট মাসেও চূড়ান্ত হয়নি দুস্থদের দুই হাজার ৫৮৩টি ভিজিডি কার্ডের তালিকা। ফলে বিতরণ না হওয়ায় দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত পাঁচ মাসের প্রায় ৩৮৭ টন চাল খাদ্যগুদামেই পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ৯ মে উপজেলা খাদ্য বিভাগ এক হাজার ৪৯৬ টন বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করলেও গুদামে জায়গার অভাবে চাল সংগ্রহ অভিযান ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, ইউএনও তাদের পাশ কাটিয়ে নিজেই তালিকা প্রস্তুতের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলেই দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে উপকারভোগীরা সরকরি চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

একাধিক চেয়ারম্যান জানান, ভিজিডি কর্মসূচির দুস্থদের তালিকা ওয়ার্ড ভিজিডি কমিটি যাচাই করে ইউনিয়ন কমিটিতে দিয়ে থাকে। পরে ইউনিয়ন ভিজিডি কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের জন্য উপজেলা ভিজিডি কমিটির কাছে দেয়। উপজেলা ভিজিডি কমিটিতে যাচাই-বাছাই হওয়ার পর প্রকৃত দুস্থ, অসহায় ও গরিব নারীরা ভিজিডি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন। প্রতি দুই বছর অন্তর এ তালিকা করা হয়। প্রতিজন কার্ডধারী প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে সরকারি চাল পেয়ে থাকেন। মেয়াদ শেষের তিন মাস আগে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সেই অনুযায়ী তারা নির্দেশনা পেয়ে গত অক্টোবর মাসে ভিজিডি কর্মসূচির দুস্থদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা ভিজিডি কমিটির কাছে প্রেরণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিজন দুস্থ ৩০ কেজি করে ভিজিডি কর্মসূচির চাল পাওয়ার কথা। সেই হিসাবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ উপজেলার দুই হাজার ৫৮৩টি ভিজিডি কার্ডের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৭৭ হাজার ৪৯০ কেজি চাল প্রতি মাসে খাদ্যগুদামে জমা হয়েছে।

পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল অভিযোগ করে বলেন, তারা যথাসময়ে তালিকা চূড়ান্ত করে উপজেলা ভিজিডি কমিটির কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠান। কিন্তু ইউএনও এর কোনো তোয়াক্কা না করে উপজেলাব্যাপী মাইকিং করে দুস্থ নারীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে একটি তালিকা প্রস্তুত করেন। ফলে এ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে চেয়ারম্যানদের দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজও দুস্থদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি। ফলে গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে দুস্থদের চাল উত্তোলন ও বিতরণ না করায় তা খাদ্যগুদামেই পড়ে রয়েছে।

উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, ৯ মে এ উপজেলায় এক হাজার ৪৯৬ টন বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মো. মিজানূর রহমান বলেন, ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগীর তালিকা ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে বলে সারাদেশের অধিকাংশ উপজেলার মতো কেশবপুরেও এ কার্যক্রম স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ভিজিডি কার্ড তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। যারা তালিকাভুক্ত হবেন, তারা ঈদের আগেই চাল পাবেন।