কুষ্টিয়া

সড়ক সংস্কারে জোড়াতালি

চরমপন্থি নেতা ঠিকাদারি কাজে যুক্ত থাকায় সবাই ভয়ে চুপ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সড়ক সংস্কারে জোড়াতালি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তারাগুনিয়া জিসি ডাংমড়কা আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে - সমকাল

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটারের বেশি একটি সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ দরপত্রের শর্তানুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের তালিকাভুক্ত নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন গণমুক্তি ফৌজের শীর্ষ নেতা আমিনুল ইসলাম মুকুলের সঙ্গে যৌথভাবে সড়ক সংস্কারের কাজ করছেন দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সুমন। এ কারণে ব্যাপক অনিয়ম হলেও কেউ ভয়ে মুখ খুলছেন না।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া জিসি ডাংমড়কা আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক পূনর্নির্মাণ কাজের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বন্যা-দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প থেকে সড়কটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে জন্য চুক্তি হয় সাত কোটি ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৫ টাকা।

তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রতিষ্ঠান হলো- এসএইচজে, এসকেএস ও এসএইচই। এসএইচজে সাইফুল ইসলাম জোদায়াদ্দার, চুয়াডাঙ্গা; এসকেএস- সাদেকুজ্জামান সুমন, দৌলতপুর ও এসএইচই- সৈকত এন্টারপ্রাইজ, কুষ্টিয়া সদর। সৈকত চরমপন্থি নেতা মুকুলের ছেলে। তবে যৌথভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও তা একাই বাস্তবায়ন করছেন দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সুমন। এজন্য তিনিই এলজিইডির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে চরমপন্থি মুকুলসহ অন্য দুই ঠিকাদারের শেয়ার রয়েছে তাতে। মুকুলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে কাজ করছেন সুমন।

এলজিইডি সূত্র জানায়, গত ৫ মার্চ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তা চলতি বছরের ১ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৩০ ভাগের কিছু বেশি শেষ হয়েছে।

সরেজমিন সড়কে দেখা গেছে, ঠিকাদার প্রভাব খাটিয়ে কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অত্যন্ত ধীরগতিতে চলা সড়কটিতে ট্রাক্টর দিয়ে খুঁড়ে পুরনো ডাস্ট ব্যবহার করেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিম্নমানের ইটসহ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। এলজিইডির প্রকৌশলীরাও সুমনের কাছে অসহায় বলে জানা গেছে।

দৌলতপুরের এক ঠিকাদার বলেন, চরমপন্থি নেতা মুকুলের নাম ব্যবহার করে সড়কটির কাজ করছেন সাদিকুজ্জামান সুমন। পুলিশের খাতায় পলাতক গণমুক্তি ফৌজের শীর্ষ চরমপন্থি নেতা আমিনুল ইসলাম মুকুলের ছেলে সৈকতের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বেশিরভাগ নিজের করে নিচ্ছেন। তার হয়ে কলেজের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সুমনসহ অন্য আরও কয়েকজন ঠিকাদার কাজ করছেন। আর মুকুল এ কাজে সুমনের পার্টনার হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

উপজেলার এক প্রকৌশলী বলেন, 'সড়কের কাজ নিয়ে কিছু বলার মতো অবস্থা নেই। অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করে থাকতে হচ্ছে। সুমনের চাচা ছিলেন এলজিইডির যুগ্ম সচিব। সেই থেকেই সুমন নামে-বেনামে বহু কাজ করে আসছেন। তার চাচা অবসরে যাওয়ার পরও তার প্রভাব রয়েছে। এক জনপ্রতিনিধি জানান, কাজ ধীরগতিতে চলায় বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের দুর্ভোগ হচ্ছে। কাজ একদিন হয়ে দু'দিন বন্ধ থাকে। কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সুমন বলেন, আমি ও চুয়াডাঙ্গার সাইফুল ইসলাম নামে এক ঠিকাদার মিলে কাজটির জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণ করি। পরে চরমপন্থি মুকুলের লোকজন ভয় দেখিয়ে তাকে এ কাজের অংশীদার করে। মুকুল নামমাত্র ঠিকাদার। এ কাজে তার কোনো ইনভেস্ট নেই। মুকুলের প্রভাব বিস্তার করে আমি কোনো কাজ করছি না। সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে বলে সুমন দাবি করেন। দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান বলেন, সাদিকুজ্জামান কাজটি করলেও তার সঙ্গে পার্টনার হিসেবে সৈকত এন্টারপ্রাইজ (মুকুলের ছেলে) ও চুয়াডাঙ্গার সাইফুল ইসলাম নামে আরও দুই ঠিকাদার রয়েছেন। কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।