চলন্ত বাস থেকে যাত্রীকে ফেলে দিল হেলপার

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

অন্য গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল চালক সোহেল। বাসযাত্রী সাদিকুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী যুবক প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদের ফলে প্রাণ দিতে হলো ওই যুবককে। সোমবার ত্রিশালের সাইন বোর্ড নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান সাদিক। সাদিক হত্যার বিচার দাবিতে বুধবার মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

রায়মনি গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে ফার্নিচার ব্যবসায়ী সাদিকুর রহমান গত সোমবার গাজীপুর জেলার নয়নপুর গিয়েছিলেন ব্যবসায়িক কাজে। সকাল ১০টার দিকে তিনি সৌখিন পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৯৪২২) ফিরছিলেন ত্রিশালে। যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, বাসটিকে ঢাকা থেকেই বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিল চালক সোহেল। কয়েকটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে চলছিল বাসটি। ভালুকার কাছাকাছি এসে হার্ড ব্রেক কষে সোহেল। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরাও ছিটকে পড়েন। এ সময় সাদিক সোহেলকে ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য অনুরোধ করলে হেলপারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হেলপার ও বাসের সুপারভাইজার সাগর মিলে সাদিকুরকে ধরে বাসের দরজার কাছে এনে ত্রিশালের সাইন বোর্ড নামক এলাকায় ধাক্কা দিয়ে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়। সাদিককে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার পর গাড়িতে থাকা অন্য যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে কিছুদূর গিয়ে বাস থামিয়ে পালিয়ে যায় চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার। স্থানীয়রা সাদিককে উদ্ধার করে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদিকুরের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাসটি ত্রিশাল থানায় নিয়ে আসে। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ সুপারভাইজার সাগরকে গ্রেফতার করে।