চার জেলায় তিন গৃহবধূসহ ৫ খুন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

বগুড়ায় দিনমজুর ও কৃষক, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও পটুয়াখালীর গলাচিপায় তিন গৃহবধূকে হত্যা, রাজশাহীর বাঘায় নারী ও কুষ্টিয়ায়

মুয়াজ্জিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যুরো, প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

বগুড়া :বগুড়ায় খলিলুর রহমান নামে এক কৃষক এবং লাল্টু মিয়া নামে এক দিনমজুরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ লাশ দুটি পৃথক এলাকা থেকে উদ্ধার করে। খলিলুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয় বগুড়া সদর উপজেলার কদিমপাড়া এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে। সে গোপালবাড়ী গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে। লাল্টু মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয় সদর উপজেলার টেংড়াগানি এলাকার ফসলের মাঠের একটি শ্যালো মেশিনঘর থেকে। লাল্টু মিয়া সদর উপজেলার হাজরাদীঘি এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দুপুরে খলিলুর রহমান বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। তার স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার দুপুরে কদিমপাড়া মাঠে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

অন্যদিকে লাল্টু মিয়া শ্যালো মেশিন পাহারা দেওয়ার জন্য মেশিনঘরেই থাকতেন। মঙ্গলবার এলাকার কয়েকজন কৃষক মেশিনঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে এগিয়ে যান। ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে লাল্টু মিয়ার মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন তারা। পরে বিকেলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। বগুড়ায় সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, খলিলুর রহমানকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাল্টু মিয়ার গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে।

বাঘা (রাজশাহী) :রাজশাহীর বাঘায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে গোলাপী নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বাঘা উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মনির ইসলামের স্ত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের হেদাতিপাড়া মাঠের লালু প্রামাণিকের ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

বাঘা থানার ওসি মহসীন আলী জানান, ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো জায়গায় তাকে হত্যা করে মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে কেউ। স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও নিহতের জাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের মামা শাকিব হোসেন মামলা করেছেন। তবে এ মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

কুষ্টিয়া :কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আলফাত হোসেন নামে স্থানীয় এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি গোবিন্দপুর এলাকার পাচু সরদারের ছেলে।

কুমারখালী থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, গত শনিবার বাড়ি থেকে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়ে আর ফেরেনি আলফাত হোসেন।

হবিগঞ্জ :হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে মুক্তি রানী দাস নামে এক গৃহবধূ স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার অলিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার পূর্ববড়চর গ্রামের কিশোর দাসের স্ত্রী।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আনিছুজ্জামান জানান, মুক্তি ও তার স্বামী কিশোর দাস উপজেলার অলিপুর এলাকায় বসবাস করে একটি কোম্পানিতে কাজ করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে কলহের সৃষ্টি হয়। এর জেরে সোমবার দুপুরে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কিশোর দাস তার স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান তিনি।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) :মিরসরাইয়ে হোসনে আরা লিপি নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্য আজমনগর গ্রামে আবদুল পণ্ডিতের বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন গা ডাকা দিয়েছে। লিপি ওই বাড়ির কামাল উদ্দিনের স্ত্রী এবং ওই ইউনিয়নের মেহেদীনগর গ্রামের শেখ আলমের মেয়ে।

ওই গৃহবধূর চাচা মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, শশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে।

জোরারগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবেদ আলী জানান, লাশের ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

গলাচিপা (পটুয়াখালী) :পটুয়াখালীর গলাচিপায় বাবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পর পুলিশ মঙ্গলবার উপজেলার পাড় ডাকুয়া গ্রাম থেকে সুখী আক্তার নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে। লাশটি খালের কচুরিপানার মধ্যে লুকানো ছিল। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, গৃহবধূকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ডাকুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জাকির হাওলাদারের মেয়ে সুখী আক্তারের সঙ্গে ৩ মাস আগে পার্শ্ববর্তী ফুলখালী গ্রামের শামসু মোল্লার ছেলে ফিরোজ মোল্লার বিয়ে হয়। শুক্রবার সুখী আক্তারকে প্রথমবারের মতো স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হয়। রোববার স্বামী ফিরোজকে নিয়ে বাবার বাড়ি নাইওর আসেন। ফিরোজ মোল্লা জানান, ওই দিন রাতে সুখী আক্তার দাদির সঙ্গে ঘুমানোর কথা বলে বিছানা ছেড়ে চলে যান। এর পরই সুখী নিখোঁজ হন।