পাঁচ জেলায় তিন গৃহবধূসহ ৬ খুন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

নেত্রকোনায় মৎস্যজীবী, বগুড়ায় দিনমজুর ও কৃষক, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রামের মিরসরাই এবং পটুয়াখালীর গলাচিপায় তিন গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। রাজশাহীর বাঘায় নারী ও কুষ্টিয়ায় মুয়াজ্জিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যুরো, প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

নেত্রকোনা :নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের সাকুয়া বাজার সংলগ্ন গন্ধবপুর গ্রামের মৎস্যজীবী বিষ্ণু চন্দ্র বর্মণকে মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বসতঘরে গলা কেটে খুন করা হয়েছে। হত্যাকারী এ সময় বিষ্ণু চন্দ্র বর্মণের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ঘটনার পরপরই পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নেত্রকোনা জেলা সমবায় কর্মকর্তা এমএ আহাদের ছেলে তাসকিনকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষ্ণু চন্দ্র বর্মণ তার বসতঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় একই এলাকার যুবক তাসকিন বিষ্ণুর ঘরে ঢুকে দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। এ সময় বিষ্ণু চন্দ্র বর্মণের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিবেশীরা তাসকিনকে বিষ্ণুর ঘর থেকে রক্তমাখা অবস্থায় বের হতে দেখে চিৎকার করলে সবাই এগিয়ে এসে বিষ্ণুর মস্তকবিচ্ছিন্ন লাশ দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাসকিনের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে আটক করে। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি।

বগুড়া :বগুড়ায় খলিলুর রহমান নামে এক কৃষক এবং লাল্টু মিয়া নামে এক দিনমজুরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ লাশ দুটি পৃথক এলাকা থেকে উদ্ধার করে। খলিলুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয় বগুড়া সদর উপজেলার কদিমপাড়া এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে। সে গোপালবাড়ী গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে। লাল্টু মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয় সদর উপজেলার টেংড়াগানি এলাকার ফসলের মাঠের একটি শ্যালো মেশিনঘর থেকে। লাল্টু মিয়া সদর উপজেলার হাজরাদীঘি এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে। সোমবার দুপুরে খলিলুর রহমান বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। তার স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার দুপুরে কদিমপাড়া মাঠে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

অন্যদিকে লাল্টু মিয়া শ্যালো মেশিন পাহারা দেওয়ার জন্য মেশিনঘরেই থাকতেন। মঙ্গলবার এলাকার কয়েকজন কৃষক মেশিনঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে এগিয়ে যান। ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে লাল্টু মিয়ার মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন তারা। পরে বিকেলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। বগুড়ায় সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, খলিলুর রহমানকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাল্টু মিয়ার গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে।

বাঘা (রাজশাহী) :বাঘায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে গোলাপী নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বাঘা উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মনির ইসলামের স্ত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের হেদাতিপাড়া মাঠের লালু প্রামাণিকের ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওসি মহসীন আলী জানান, ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো জায়গায় তাকে হত্যা করে মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে কেউ। স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও নিহতের জাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের মামা শাকিব হোসেন মামলা করেছেন।

কুষ্টিয়া :কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আলফাত হোসেন নামে স্থানীয় এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি গোবিন্দপুর এলাকার পাচু সরদারের ছেলে।

হবিগঞ্জ :হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে মুক্তি রানী দাস নামে এক গৃহবধূ স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার অলিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার পূর্ববড়চর গ্রামের কিশোর দাসের স্ত্রী। মুক্তি ও তার স্বামী কিশোর দাস উপজেলার অলিপুর এলাকায় বসবাস করে একটি কোম্পানিতে কাজ করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে কলহের সৃষ্টি হয়। এর জেরে সোমবার দুপুরে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কিশোর দাস তার স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান তিনি।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) :মিরসরাইয়ে হোসনে আরা লিপি নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্য আজমনগর গ্রামে আবদুল পণ্ডিতের বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন গা ডাকা দিয়েছে। লিপি ওই বাড়ির কামাল উদ্দিনের স্ত্রী এবং ওই ইউনিয়নের মেহেদীনগর গ্রামের শেখ আলমের মেয়ে। ওই গৃহবধূর চাচা মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, শশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে।

গলাচিপা (পটুয়াখালী) :গলাচিপায় বাবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পর পুলিশ মঙ্গলবার উপজেলার পাড় ডাকুয়া গ্রাম থেকে সুখী আক্তার নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে। লাশটি খালের কচুরিপানার মধ্যে লুকানো ছিল। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, গৃহবধূকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।