লোহাগড়া পৌরসভার লক্ষ্মীপাশায় অবস্থিত মা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর পর নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্লিনিক পরিচালনার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে ক্লিনিকের মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত শনিবার লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুকুল কুমার মৈত্র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাইমেন জিসান উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার কোটাকোল ইউপির করগাতী গ্রামের দিনমজুর কামাল হোসেন তার স্ত্রী বিলকিস বেগমকে (২৫) শুক্রবার সকালে সিজার করানোর জন্য লক্ষ্মীপাশার মা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করেন। এ সময় ওই ক্লিনিকের মালিক ওহিদুজ্জামান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সিজার বাবদ সাড়ে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। এর পর দুপুরে চিকিৎসক তাজরুল ইসলাম তাজ কোনো অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ছাড়াই অদক্ষ নার্সকে সঙ্গে নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে সিজারের কাজ শুরু করেন। প্রসূতির শরীরে ইনজেকশন পুশ করার পর অস্ত্রোপচার শুরু করলে অপারেশন থিয়েটারেই তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুকুল কুমার মৈত্র জানান, ক্লিনিক পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক এবং দু'জন নার্স থাকার বিধান থাকলেও ওই ক্লিনিকে তা না থাকায় জরিমানাসহ ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে।

এদিকে প্রসূতি মৃত্যুর পর ক্লিনিক মালিক জাহাঙ্গীর ওই দিন রাতেই রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুই লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেন। এ ব্যাপারে স্বজনদের অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই শনিবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে ওই নারীর লাশ দাফন করা হয়। বিলকিসের স্বামী কামাল হোসেন টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করেছেন বলে স্বীকার করেন।

অভিযুক্ত তাজরুল ইসলাম বর্তমানে ওএসডি হিসেবে প্রেষণে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন