রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের মরডাঙ্গা সেকেন্দারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ মিয়া যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে মাদ্রাসার ১৮টি মেহগনি গাছ কেটেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাছগুলো কাটার ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি বা ম্যানেজিং কমিটির কোনো রেজুলেশন করা হয়নি। গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি এ ঘটনা ঘটলেও সম্প্রতি বিষয়টি সামনে এসেছে।

যদিও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ দাবি করেছেন, সাবেক জেলা প্রশাসক ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি মো. শওকত আলীর মৌখিক অনুমতি নিয়ে ১০টি গাছ কেটে সেগুলো দিয়ে মাদ্রাসার জন্য ২০টি চেয়ার বানিয়েছেন। তবে সাবেক জেলা প্রশাসক শওকত আলী জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি শিক্ষকদের সঙ্গে এক সভায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন মাদ্রাসার জন্য কয়েকটি চেয়ার বানাতে হবে। এজন্য একটি বা দুটি গাছ কাটা দরকার। সভায় ওই শিক্ষকরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গাছ কাটার পক্ষে মত দেন। কিন্তু তার পরই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ মিয়া ম্যানেজিং কমিটির কোনো সভা না করে বা রেজুলেশন ছাড়াই মাদ্রাসার পুরনো ভবনের পেছনে হেফজখানার সামনে থেকে শ্রমিকদের দিয়ে বড় ১৮টি মেহগনি গাছ কর্তন করেন। এর বাজারমূল্য কমপক্ষে ছয় লাখ টাকা। পরে কর্তন করা গাছের স্থান দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করান। এর পরই মাদ্রাসায় রমজানের ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হলে সামান্য কয়েকটি গাছের ডাল দিয়ে মিস্ত্রি ডেকে চেয়ার তৈরির কাজ শুরু করেন। দু'দিন কাজ করার পর বন্ধ হয়ে যায়।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নুরুল আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদ্রাসার জন্য কয়েকটি চেয়ার বানাতে হবে। তখন আমি বলি, আমি ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। অথচ আমি কিছুই জানি না। তখন অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষকরা জানেন, তাদের কাছে হিসাব-নিকাশ আছে। সমস্যা নেই।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, মাদ্রাসায় নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে। এজন্য ১০টি গাছ কাটা হয়েছে। সেগুলো দিয়ে ২০টি চেয়ার বানানো হয়েছে। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলীর মৌখিক অনুমতি নিয়ে গাছগুলো কাটা হয়েছিল। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং শিক্ষকরাও বিষয়টি জানেন। বন বিভাগের অনুমতি বা ম্যানেজিং কমিটির কোনো রেজুলেশন করা হয়েছিল কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না করা হয়নি।

মন্তব্য করুন