কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনার কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম) লিমিটেডের গ্রিড সাব-স্টেশনে ট্রান্সফরমারের ত্রুটিজনিত কারণে মিলসহ আবাসিক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে গত পাঁচ দিন। এতে মিলের উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে আবাসিক এলাকায় পানি সরবরাহ না থাকায় পানির জন্য হাহাকার চলছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

মিল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত প্রায় পৌনে ৮টায় ত্রুটিজনিত কারণে কেপিএমের গ্রিড সাব-স্টেশনের প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে পড়ে। এতে মিলসহ আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মিলসহ পুরো আবাসিক এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে মিলের উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। সমগ্র এলাকা বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আবাসিক এলাকায় পানির জন্য হাহাকার পড়েছে। মোটরচালিত টিউবওয়েল থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। দু-একটি টিউবওয়েল থাকলেও দীর্ঘ লাইন দিয়ে পানি নিতে গিয়ে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পানি নিতে আসা কয়েকজন নারী জানান, পানির জন্য এমন কষ্ট তারা জীবনে করেননি। এটা একটা মহাবিপর্যয় বলে তারা মন্তব্য করেন। হঠাৎ পানি টানতে গিয়ে অনেককে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।

কেপিএমের মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) স্বপন কুমার সরকার বলেন, আমাদের ইনকামিং ১০ কেভি ভোল্টেজের ট্রান্সফরমার ত্রুটির ফলে কেপিএমজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইতিমধ্যে পিডিবি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কয়েকজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে। ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎসংযোগ দেওয়া সম্ভব হলে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে মিলের এমডি ড. এমএমএ কাদের বলেন, ট্রান্সফরমার ত্রুটির কারণে সমগ্র মিল এলাকা অন্ধকারে রয়েছে। প্রায় ৭০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত কেপিএমের যন্ত্রাংশগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। অন্য ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ খুলে এনে ত্রুটিযুক্ত ট্রান্সফরমার মেরামতের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৫৩ সালে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী পেপার মিলস প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে দৈনিক ১৩০ টন কাগজ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি পেপার মেশিন বসানো হয়। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ কেপিএমে বর্তমানে দৈনিক ১৫-২০ টন কাগজ উৎপাদিত হয়। মিলে বর্তমানে স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী এবং কর্মকর্তা নিয়ে ৮৫০ জন জনবল রয়েছে।

মন্তব্য করুন