৫ মাস পানিতে ডুবে থাকে স্কুল ক্যাম্পাস

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

তাজনুর রহমান, শৈলকূপা (ঝিনাইদহ)

স্কুলের সামনের মাঠে শিক্ষার্থীর বদলে শতাধিক হাঁসের চলাচল ও হাসের বিষ্ঠায় নোংরা পানি। বছরের ৫ মাসই পানিতে ডুবে থাকে স্কুল মাঠসহ পুরো ক্যাম্পাস। তাই শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দাতেই কাটাতে হয় শিক্ষার্থীদের। বছরের পর বছর এমনই ঘটনা ঘটে আসছে ঝিনাইদহের শৈলকূপার ১৪১নং বড়ূরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনটি কক্ষের একটি পাকা ভবন ছাড়া কোনো অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি স্কুলটিতে। তবে এ ভবনটিও অতি ঝুঁকিপূর্ণ। শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে স্কুলটিতে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জানান, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৯৯১ সালে সরকারের রেজিস্টার্ডভুক্ত হয় স্কুলটি। এর পর ২০১৩ সালে হয় জাতীয়করণ। স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে ১০৯ জন। এর মধ্যে উপবৃত্তি পেয়ে থাকে ৯১ শিক্ষার্থী। গতবারের শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার শতভাগ। তিনি বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই বছরের ৫ মাস জলাবদ্ধতা থাকে স্কুলের সামনের ছাত্রছাত্রীদের খেলার মাঠসহ ক্যাম্পাস। এ ৫ মাস তাদের ক্লাসরুম ও বারান্দাতে কাটাতে হয়। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর একটি মাত্র পাকা ভবন নির্মাণ হয়। বর্তমানে তা অতি ঝুঁকিপূর্ণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সরকারি দপ্তরেও অনেক ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো দিন কেউ এগিয়ে আসেনি। এর পরও তার স্কুল এ মৌসুমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপে ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

স্কুলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মস্তফা মাহমুদ জানান, ৫ মাস আগে তিনি শৈলকূপায় যোগদান করেন। জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কোনো বরাদ্দ থাকে না। জনপ্রতিনিধিরা এ কাজ করে থাকেন। তিনি প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান মামুন জানান, তিনি স্কুলের জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করেছেন এবং তা নিরসনে বিশেষ বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জলাবদ্ধতা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

উসমান গনি জানান, বিষয়টি তিনি জানতেন না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন।