টিআর-কাবিখা প্রকল্পে লুটপাট

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

মো. শাহীনুর কিবরিয়া মাসুদ, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) বিশেষ নন সোলার কর্মসূচির আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছরের ১৩ মার্চ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা ও ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) একরামুল ছিদ্দিকের স্বাক্ষরিত তালিকা থেকে জানা যায়, টিআর ১৯টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৫২০ টাকা এবং কাবিখার ১৬টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৩২ টন চাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই নামসর্বস্ব প্রকল্প। এডিবিসহ অন্যান্য বরাদ্দে উন্নয়নকৃত প্রকল্পকে কাগজপত্রে বাস্তবায়ন দেখিয়ে টিআর-কাবিখার অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে।

টিআর প্রকল্পগুলো হলো- পশ্চিম গোমদণ্ডী দক্ষিণ পাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, আবদুল লতিফ চৌধুরীর বাড়ির সড়ক, উপজেলার হলরুমের আসবাবপত্র, বড়ুয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন, নজু শাহ সড়ক, মরহুম মফিজ সড়ক, সারোয়াতলী হাজী আবদুল সবুরের বাড়ির রাস্তা, সুয়াবিবি সড়ক, পোপাদিয়া আবদুল ওহাব সড়ক, আহলা কড়লডেঙ্গা তালুকদারপাড়া ঈদগাঁও, আমুচিয়া বগাচরা সড়ক, খায়ের মঞ্জিল দরবার শরিফ, পৌরসভার মুসলিম উদ্দিন সাহেবের পারিবারিক কবরস্থান, অন্য একটি প্রকল্প, কঞ্জুরি হযরত চান্দবক্স সড়ক, আমুচিয়া ইমাম হোসাইন একাডেমির আসবাবপত্র ক্রয়, চরণদ্বীপ ভাণ্ডারী দায়রা শরিফ, নুর কামাল ক্লিনিক সংলগ্ন সড়ক কবরস্থান ও ঘাটকুল সড়ক উন্নয়ন।

কাবিখা প্রকল্পগুলো হলো- কধুরখিল শরিফপাড়া জাগের সওদাগর বাড়ির সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সড়ক, পশ্চিম গোমদণ্ডী হাজী আবুল হোসেন নুর নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, শাকপুরা সতীশ মহাজন সারাং সড়ক, তাজউদ্দিন সড়কের দুই সাইড মাটি ভরাট, সারোয়াতলী বাইন্যাপাড়া সংযোগ সংস্কার, ছনদণ্ডী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভরাট, খিতাপচর রশিদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোপাদিয়া আকুলিয়া পুরাতন ডিপেন সড়ক, শহীদ রফিক স্কুল সংযোগ, চরণদ্বীপ ফকিরা বাপের বাড়ি সড়ক, আলী আহমদ সড়ক, চরণদ্বীপ দরবার কবরস্থান সংযোগ সড়ক, আমুচিয়া দত্ত চৌধুরী সড়ক, মুছা চৌধুরী বাড়ি রাস্তা ও কড়লডেঙ্গা বুরি সড়ক সংস্কার।

উপজেলা যুবলীগের একাংশের সভাপতি সেলিম উদ্দিন বলেন, '১৯টি টিআর ও ১৬টি কাবিখা প্রকল্পের অর্থ হরিলুট হয়েছে।' চরণদ্বীপ আলী আহমদ সড়ক সংস্কার প্রকল্পের সভাপতি তসলিম উদ্দিন বলেন, আমাকে প্রকল্পের সভাপতি করা হলেও কাজ করেছেন স্থানীয় মঈন উদ্দিন আজাদ। চরণদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, চরণদ্বীপ ফকিরা বাপের বাড়ি সড়ক নামে কোনো সড়ক এ ইউনিয়নে নেই। চরণদ্বীপ দরবার কবরস্থান সংযোগ সড়ক সংস্কার নামে যে প্রকল্প দেখানো হয়েছে ওই সড়কের কাজ এমপিদের নির্দেশে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সংস্কার করেছি। এ ছাড়া ভাণ্ডারী দায়রা শরিফে গত তিন বছরেও কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। রোয়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, টিআরের অর্থে নয়, এডিবির বিশেষ বরাদ্দে হাজী আবুল সবুরের বাড়ির রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে সপ্তাহ দুয়েক আগে। সারোয়াতলী ইউনিয়নে টিআর বরাদ্দের উল্লেখিত সুয়াবিবি সড়ক আছে বলে আমার জানা নেই।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা মন্তব্য করতে অপারগতা জানিয়ে বলেন, তার বক্তব্য নিতে হলে জেলা প্রকল্প পরিচালকের অনুমতি নিতে হবে।

ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) একরামুল ছিদ্দিক জানান, বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় করলে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।