শিকলবাহা খালে বাঁধ পানি প্রবাহ বন্ধ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

আহমদ উল্লাহ, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চারলেনের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে শিকলবাহা খাল। এ খাল সংযুক্ত হয়েছে কর্ণফুলী নদীতে। খালটি কর্ণফুলী উপজেলার চারটি ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে বহমান রয়েছে। শিকলবাহা খালটি এক সময় খরস্রোতা থাকলেও বর্তমানে খালের মুখ ভরাট করে পিডিবির জিআইএস উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজের জন্য খালের মাঝখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। দু'পাশে অবৈধভাবে ভরাট করে গড়ে উঠেছে স্থাপনা। এ বছর বর্ষায় টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দক্ষিণ জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী অভিযোগ করে জানান, ওই খাল ভরাট হওয়ার কারণে চরপাথরঘাটা, শিকলবাহা, চরলক্ষ্যা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় খালের জমি উদ্ধার করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

পিডিবির জিআইএস উপকেন্দ্রের প্রকল্প উপপরিচালক দুলাল হোসেন জানান, 'বিকল্প কোনো পথ না থাকায় প্রকল্পের মালামাল নেওয়ার জন্য চলাচলের পথ করেছি। তবে পানি যাতে

বাধাগ্রস্ত না হয়, তার জন্য বাঁধের নিচে দুটি পাইপ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে এ স্থানে কালভার্ট

নির্মাণ করা হবে।

পিডিবির জিআইএস উপকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক আবদুল মোক্তাদির সমকালকে জানান, 'যাতে জোয়ার-ভাটার পানি বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকার সিডিএ মাঠে নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতাধীন ৩৩/১১ কেভি, ৪০/৬ এমভিএ নতুন জিআইএস উপকেন্দ্র। মহাসড়ক থেকে ওই স্থানে যেতে পার হতে হয় শিকলবাহা খাল। খাল পার হওয়ার জন্য পুরনো কালভার্ট থাকলেও তা ব্যবহার না করে পিডিবি কর্তৃপক্ষ খাল দখল করে চলাচলের পথ সৃষ্টি করেছে। যার ফলে খালের জোয়ার-ভাটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ছাড়া উপজেলার ব্যস্ততম মইজ্জ্যারটেক মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকার একটি খাল দখল করে গরুর বাজার বসিয়ে পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, খাল একটু একটু করে ভরাটের পর এর ওপর ঘর তৈরি করা হয়েছে। এভাবে এখন পুরো খাল কতিপয় ব্যবসায়ীর দখলে চলে গেছে। নির্মাণাধীন চারলেন সড়কের উভয় পাশে তৈরি করা ড্রেনের পানি নিস্কাশন ওই খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসন্ন বর্ষায় ড্রেনের পানি খাল দিয়ে নিস্কাশন হবে না।

কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, 'পিডিবি খাল দখল করে উপকেন্দ্র নির্মাণ করাতে পানির জোয়ার-ভাটা বাধাগ্রস্ত হবে। তবে ওই খালসহ উপজেলার সব খাল উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই ক্ষেত্রে ভূমিমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেবেন না। কর্ণফুলী উপজেলার জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সবগুলো খাল উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর্ণফুলীর ইউএনও সামশুল আলম তিবরিজ জানান, অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে খালটি দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।