নান্দাইলের সেই মাদ্রাসা শিক্ষক জেলহাজতে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

নান্দাইল উপজেলার চপই ফিরোজা বানু হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছিল প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. রবিউল ইসলাম। ছাত্রের বাবা প্রধান শিক্ষককে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পালিয়ে থাকার পর রোববার ময়মনসিংহ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে প্রধান শিক্ষককে জেলহাজতে পাঠান।

শিশু শিক্ষার্থীর বাড়ি নান্দাইল পৌর সদরে। সে চপই গ্রামে মামাবাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় তিন বছর ধরে হেফজ বিভাগে লেখাপড়া করছে। প্রধান শিক্ষকের বাড়িও চপই গ্রামে। সে মাদ্রাসার একটি কক্ষে থাকত। রাতে শরীর টিপানোর কথা বলে প্রায়ই ওই ছাত্রসহ আরও দুই ছাত্রকে তার কক্ষে নিয়ে যেত। রাত গভীর হলে দু'জনকে তাদের কক্ষে পাঠিয়ে দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চিৎকার শুরু করলে তার মুখে বালিশ চেপে ধরত প্রধান শিক্ষক। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ছাত্রকে প্রাণনাশের হুমকিও দিত। যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ১৩ জুন বাড়িতে এসে ঘটনাটি তার বাবাকে জানায় সে। পরে শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে ২০ জুন নান্দাইল থানায় মামলা করেন। মাদ্রাসার এক শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রধান শিক্ষক শুধু ওই ছাত্র নয়, অন্য ছাত্রদের সঙ্গেও এ রকম আচরণ করে। ছাত্রটির বাবা বলেন, বিষয়টি লজ্জাজনক। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা এমন নরপশুদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।