স্কুল সংস্কারের আগেই বিল ছাড়

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

মাদারগঞ্জ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেরামত কাজ শেষ করার আগেই বিল ছাড় করিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জে ১৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কারে ৩৪টি বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা, রুটিন মেরামতে ১২৮টি বিদ্যালয়ে ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্লিপের কাজে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রকল্পের এস্টিমেট অনুযায়ী উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার ছাড়পত্র দিলেই বরাদ্দকৃত টাকা প্রদান করবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর। কিন্তু বিদ্যালয়ে সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে ওই বরাদ্দের টাকা শিক্ষা কর্মকর্তার হিসাব নম্বরে ছাড় করে দিয়েছেন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, বারবার শিক্ষা অফিসকে ২৭ জুনের মধ্যে সব বিদ্যালয়ের বিল জমা দেওয়ার তাগিদ দিলেও তারা কর্ণপাত করেনি। জুন ক্লোজিংয়ের ৩০ তারিখে বিকেল ৫টায় ১৯৯টি বিদ্যালয়ের বিল ছাড় করতে অনেক চাপ নিতে হয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ের ভাউচারে অনেকের স্বাক্ষর ছিল না। পরে সংশোধন করে বিল টোকেন নম্বর ফেলানো হয়। এত চাপের মধ্যে কাজ করার পরও সময় না থাকায় কয়েকটি স্কুলের বরাদ্দের টাকা ফেরত যায়। জুন ক্লোজিংয়ের কারণে টাকাগুলো তড়িঘড়ি করে শিক্ষা কর্মকর্তার হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, জুন ক্লোজিংয়ের কারণে তড়িঘড়ি করে বিল পাস হলেও স্কুল মেরামত কাজ না করা পর্যন্ত টাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রতিটি স্কুলের কাজ দেখে বিল প্রদান করা হবে। বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্য কাজ আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত যেন না যায়, তাই কিছুটা অনিয়মের অশ্রয় নিতে হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন রয়েছে।

কামারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরুজ্জামান জানান, ৩ মাস আগে বরাদ্দের টাকা এসেছে। শিক্ষা কর্মকর্তার গড়িমসির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় ৩০ জুন তড়িঘড়ি করে বিল ভাউচার জমা দিতে হয়েছে শিক্ষকদের। শিক্ষা কর্মকর্তার হিসাব নম্বরে টাকা স্থানান্তরের বিষয়টি শিক্ষকরা ভালো চোখে দেখছেন না। শিক্ষক আ. রাজ্জাক বলেন, কাজ শেষে বিদ্যালয়প্রধান ভাউচার জমা দেবেন। সে অনুযায়ী বিল পাস হবে। সময়ের কাজ সময়ে শেষ না হওয়ায় কয়েকটি বিদ্যালয়ের টাকা ফেরত গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী রাফেজা বেগমের কাছে টাকা ফেরতকৃত বিদ্যালয়ের নাম জানতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ইতিপূর্বে শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওর যৌথ হিসাব নম্বরে টাকা জমা হতো। বর্তমানে শিক্ষা কর্মকর্তাকে একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। এখন এ বিষয়ে ইউএনওর কোনো দায়িত্ব নেই।