অধিকাংশ বিভাগে সেশনজট বিপাকে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে সেশনজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের মধ্যে ১৪টিতে ছয় মাস থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সেশনজটের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি আসার পর থেকে সেশনজট নিরসনে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেশনজট এখন আগের থেকে কমেও এসেছে। তারপরও যে বিভাগগুলোতে সমস্যা আছে তা সমাধান করা হবে।

রসায়ন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা স্নাতক অষ্টম সেমিস্টারে রয়েছেন। অথচ তাদের এখন স্নাতকোত্তর শেষ করার কথা। এই বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর প্রথম সেমিস্টারে থাকার কথা থাকলেও তারা আছেন স্নাতক সপ্তম সেমিস্টারে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতক সপ্তম সেমিস্টার সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তারা এখনও পঞ্চম সেমিস্টারও শেষ করতে পারেননি। প্রায় দেড় বছরের সেশনজটে রয়েছেন তারা। একই অবস্থা অধিকাংশ বিভাগে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, আইন, আইসিটি, সিএসই, পরিসংখ্যান, ইংরেজি, লোকপ্রশাসন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, অর্থনীতি, পদার্থ, গণিত, ফার্মাসিসহ আরও কিছু বিভাগে সেশনজট রয়েছে। ফলে চার বছরের স্নাতক কোর্স সমাপ্ত করতে শিক্ষার্থীদের লাগছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দপ্তরের তথ্যমতে, সেমিস্টারের শুরুতে শিক্ষকরা ক্লাস রুটিন অনুসারে ক্লাস নেবেন। যেহেতু এক বছরে দুটি সেমিস্টার তাই জানুয়ারি থেকে জুন এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই সেমিস্টার মিলিয়ে একটি সেশন শেষ হবে। এক সেমিস্টারের মেয়াদ ছয় মাস হওয়ায় পাঁচ মাসের মধ্যেই সব ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্ট-মিডটার্ম এবং প্রেজেন্টেশন শেষ করতে হবে। সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হলে পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ বিভাগের শিক্ষক এই নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২৪ থেকে ৩২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও শিক্ষকরা ফল প্রকাশ করেন না, এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তারা অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ শিক্ষকই ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক কাজে বেশি ব্যস্ত থাকেন। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের যে পরিমাণ ক্লাস নেওয়ার কথা, তার অর্ধেকেরও কম ক্লাস নেন।

বেশ কয়েকটি বিভাগের একাধিক শিক্ষক বলেন, সেশনজটের সবচেয়ে বড় কারণ ফল প্রকাশে দেরি হওয়া। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার খাতা বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হয়। খাতা পাঠানো আবার নিয়ে আসার মধ্যে যে সময় যায় তার কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়। খাতা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখার ব্যবস্থা হলে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাদেকুজ্জামান বলেন, আমাদের বিভাগের সেশনজট নিরসনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।